দলীয় নেতা কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে সোমবার সকালে সিবিআই দফতরে চলে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তারপর থেকে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার টানাপোড়েন। দলীয় নেতা কর্মীদের ছাড়াতে সিবিআই আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনাও করেন। তারপর অবশ্য বিকেল তিনি সিবিআই অফিস ত্যাগ করেন। তবে যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল জানিয়েছেন, আদালত যা সিদ্ধান্ত নেবে তা গ্রহণ করা হবে। 

সোমবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দলের নেতা মন্ত্রীদের গ্রেফতারি পুরোপুরি বেআইনি বলে দাবি করেন তিনি। ধৃতদের না ছাড়া হলে তাঁকেও যেন সিবিআই গ্রেফতার করে-এমন দাবিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছিলেন বলে সূত্রের খবর। এদিন মমতা সিবিআই দফতরের আসার পরই নিজাম প্যালেস এলাকা ভিড় বাড়তে থাকে তৃণমূল  কর্মীদের। কোভিড বিধি ভেঙে লকডাউন অমান্য করেই জড়ো হতে থাকেন ঘাসফুল কর্মী সমর্থকরা। নিজাম প্যালেসে আসেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মত প্রথম সারির নেতারাও। সূত্রের খবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ তলাতে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা একটি চেয়ারে বসে অপেক্ষা করতে থাকেন।

অন্যদিকে এদিন ভার্চুয়াল শুনানি হয়। সিবিআই-এর পক্ষ থেকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল ধৃতদের আদালতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।  সূত্রের খবর নিজাম প্যালেসের বাইরে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিক্ষোভের কারণেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আদালতে সশরীরে উপস্থিত করা হয়নি ধৃত তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কর্মীদের। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ শেষ হয় শুনানি। তার মিনিট ১৫ বাদেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআই অফিস থেকে বেরিয়ে যান। তবে আদালতের রায় ঘোষণার আগেই তৃণমূল নেত্রী বেরিয়ে যান নিজাম প্যালেস থেকে।

এদিন সকালেই সিবিআই গ্রেফতার করে রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়েকে। গ্রেফতার করে তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকেও। গ্রেফতার করা হয় তৃণমূলের প্রাক্তন পুরসভার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কেও। যদিও শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিষেয় তৃণমূল কংগ্রেস কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গ্রেফতারি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।