কালীপুজোয় ভোগ রান্না করার ছবি কয়েকদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ছবিতেই অশালীন মন্তব্য করে গ্রেফতার হলেন সিঙ্গুরের বাসিন্দা এক যুবক। ধৃত চন্দন ভট্টাচার্য সম্পর্কে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে খবর, ধৃত চন্দন ভট্টাচার্য সিঙ্গুর থানার ‌বিশেশ্বরবাটিতে থাকেন। কালীপুজোর দিন বাড়িতে ঠাকুরের ভোগ রান্নার ও পুজোর ছবি পোষ্ট করেছিলেন রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়। অভিযোগ সেই ছবিতেই কুরুচিকর এবং অশালীন মন্তব্য করেন চন্দন। বিষয়টি নজরে আসতেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে। এর পরেই জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে সিঙ্গুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে সিঙ্গুর থানার পুলিশ অভিযুক্ত চন্দনকে গ্রেফতার করে। 

ধৃত যুবক বিজেপি করেন বলে অভিযোগ স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে কুরুচিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে এ দিন তৃণমূল কর্মীরা সিঙ্গুর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। ধৃতকে ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। কোনওক্রমে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ। পরে সিঙ্গুর থানা মোড়ে রাস্তায় বসে অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। 

তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথবাবু অবশ্য ওই যুবককে তাঁর আত্মীয় বলে মানতে চাননি। তিনি বলেন, 'আমার পরিবারের সদস্য মাত্র দশজন। এ বাদে যদি পাড়ার কাউকে আমার পরিবারের সদস্য বলে দাবি করা হয়, সেটা খুবই দুঃখের। ওই যুবক ফেসবুকে যে মন্তব্য করেছে, তাতে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার নেওয়া হোক।'

এই ঘটনায় ফের একবার তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামনে এসেছে। হরিপালের তৃণমূল বিধায়ক বেচারাম মান্নার অবশ্য দাবি, ধৃত যুবক সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের নাতি। সিঙ্গুরের বিধায়ককে কটাক্ষ করে বেচারামবাবু বলেন, '২০১২ সালে যিনি বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি আদর্শ বলে মানেন না, তাঁর নাতি এরকম কথা বলবে সেটাই স্বাভাবিক। ওনার পরিবারের যে চব্বিশজনকে উনি সরকারি চাকরি দিয়েছিলেন, চন্দন তার মধ্যে অন্যতম।'

স্থানীয় বিজেপি নেতা সঞ্জয় পান্ডের দাবি, ধৃত যুবক রবীন্দ্রনাথবাবুরই ভাইপো। সঞ্জয়বাবু অবশ্য বলেন, 'চন্দন ভট্টাচার্য বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য। সে বিজেপি করত না। তবে সে যে কাজ করেছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধেও এরকম অনেক অশালীন মন্তব্য ফেসবুকে করা হয়। সেক্ষেত্রে কোনও ব্যবস্থা নেয় না পুলিশ।'

অভিযুক্ত চন্দন ভট্টাচার্যকে এ দিন চন্দননগর আদালতে তোলা হলে তাঁর পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃতের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করেছে পুলিশ।