রবিবার সকালে রায়গঞ্জের তরুণীর ঘটনা নাড়িয়ে দেয় রাজ্যকে। রাতের রায়গঞ্জে গাড়ি থেকে তরুণীকে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশি তদন্ত শুরু হয় জোরকদমে। কেন ফেলে দেওয়া হয় ওই তরুণীকে, ওঠে প্রশ্ন। তরুণীর পরিস্থিতিই বা কেমন ছিল তখন, জানতে যে তদন্ত শুরু করে পুলিশ, তাতে উঠে আসে একের পর এক তথ্য। পুলিশ জানতে পারে, জন্মদিনের পার্টির কথা, তরুণীর মদ্যপানের কথা। 

শনিবার রাতে রায়গঞ্জ শহরের বীরনগরের এক তরুণীকে গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে যাওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ঘটনার তদন্তে নেমে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ জানতে পারে, রায়গঞ্জ শহরের সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে ওই তরুণী। শনিবার সন্ধ্যায় নিজের বাড়িতে বলে বন্ধুর জন্মদিনের ঘরোয়া পার্টিতে গিয়েছিল ওই তরুণী। সেখানে তারা মদ্যপানও করে বলে জানা যায়। পার্টি শেষে ওই তরুণীকে নিজেদের গাড়ি করে বাড়িতে ছাড়তে যাচ্ছিলেন তার বন্ধুরা। 

নেশাগ্রস্ত ওই তরুণী পান খাবে বলে বায়না ধরে। পান কিনতে গিয়ে সব দোকান বন্ধ থাকায় পথে গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে আসার সময় ঘটে দুর্ঘটনা। গাড়ির দরজা খুলে নেমে যেতে গিয়ে বেসামাল ভাবে পড়ে যায় নেশাগ্রস্ত ওই তরুণী। স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারা একটি মেয়েকে গাড়ি থেকে পড়ে যেতে দেখেই ছুটে আসতে থাকে। তখনই ভয় পেয়ে ওই তরুণীর বন্ধুরা তাঁকে ফেলে রেখে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। 

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশি কোনও অভিযোগ করেনি যুবতীর পরিবার। সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের সামনেও কথা বলতে রাজি হননি তারা। তবে যুবতী সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরেছে বলেই হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য,  শনিবার রাত ৯ টা নাগাদ রায়গঞ্জ শহরের দেবীনগর কালীবাড়ি এলাকায় চলন্ত গাড়ি থেকে এক যুবতীকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে সেখান থেকে চম্পট দেয় কয়েকজন যুবক। এলাকার বাসিন্দারা ছুটে গিয়ে দেখেন, বছর ২৫ এর এক যুবতী রাস্তার পাশে কার্যত অর্ধনগ্ন অবস্থায় পড়ে আছে। এলাকাবাসীর দাবি,  সম্ভবত ওই যুবতী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। এরপর তারা কাউন্সিলর এবং পুলিশকে বিষয়টি জানায়। এরপরেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।