মৌলিককান্তি মণ্ডল, নদিয়া:  নেশার টান, টাকা নিয়ে পেয়ে শেষকিনা মা-কে খুন করে দিল যুবক! ধারালো অস্ত্রে কোপ মারল বৌদিকেও। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার চাকদহে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: জাতীয় সড়কে নাকা চেকিং, ব্রাউন সুগার-সহ পুলিশের জালে দুই পাচারকারী

অভিযুক্তের নাম সুকুমার বিশ্বাস। চাকদহ শহরে বাবা-মা, দুই দাদা-বৌদি ও এক বোনের সঙ্গে থাকত সে। রোজগারের কোনও চেষ্টা ছিল না,, উল্টে প্রতিদিন নেশা করত সুকুমার। টাকা আসত কোথা থেকে? স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় দিনই নেশার করার জন্য পরিবারের লোকের কাছ থেকেই টাকা চাইত ওই যুবক। আর দাবিমতো টাকা না পেলে চলত অত্যাচার। পরিস্থিতি চরমে ওঠে বৃহস্পতিবার।  

সেদিন বিকেলে নেশার জন্য টাকা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের বচসা জড়িয়ে পড়ে সুকুমার। এখানেই শেষ নয়। বচসা চলাকালীন ধারালো নিয়ে মায়ের দিকে তেড়ে যায় সে। বাধা দিতে যান অভিযুক্তের বৌদি। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হন দু'জনেই। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় চাকদহ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। অভিযুক্তের মা-কে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তাঁর বৌদির চিকিৎসার চলছে কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে।

আরও পড়ুন: ৩০টি বসন্ত পরে মহিলা জানতে পারলেন তিনি 'পুরুষ', লহমায় বদলে গেল ক্যান্সার আক্রান্তের জীবন

এদিকে এই ঘটনার পর পালিয়ে গিয়ে এলাকার একটি মদের দোকানে  আশ্রয় নেয় সুকুমার। শেষপর্যন্ত তাকে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বেধড়ক মারধরের পর হাত-পা বেঁধে ফেলে দেওয়া হয় পুকুরে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে চলে যায়। প্রতিবেশীদের দাবি, নেশার জন্য টাকা না পেয়ে এর আগে বোনকে ধারালো অস্ত্র কোপ মেরেছিল অভিযুক্ত। সে যাত্রায় কোনওরকমে প্রাণ বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। এমনকী, প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁদের দাবিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তেড়ে যেত সুকুমার। তার শাস্তির দাবি তুলেছেন সকলেই।