North Bengal TMC News: বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এবার অভিষেকের নির্বাচনী প্রচার সভায় আসলেই দেওয়া হবে নগদ টাকা। বিতর্কে রাজগঞ্জের তৃণমূল নেতা। বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

North Bengal TMC News: ভোটের মুখে টাকার ঘোষণা! আইন ভাঙছে কি প্রার্থী? কমিশনের নজরে, কটাক্ষে বিরোধীরা। মানভঞ্জন মঞ্চে টাকা ঘোষণা! ভোটের মুখে বড় বিতর্কে কৃষ্ণ দাস, কমিশনের নজরে দাবি বিরোধীদের। দু’দিন আগেও যাঁকে নিয়ে প্রকাশ্যে কটূক্তি করেছিলেন, আজ সেই খগেশ্বর রায়কেই গলা জড়িয়ে ধরলেন জলপাইগুড়ি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাস। ভোট যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে দলের অন্দরের সমীকরণ বদলের ছবি। রাজগঞ্জে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ভুলে একই মঞ্চে কৃষ্ণ দাস ও খগেশ্বর রায়ের উপস্থিতি ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

কী বলছেন তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক? 

রাজগঞ্জ বিধানসভায় টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায়। অতীতে তাঁকে নিয়েই একাধিকবার কটাক্ষ করতে শোনা গিয়েছে কৃষ্ণ দাসকে। ২০২১ সালের ভোটেও খগেশ্বর রায়কে প্রার্থী করা নিয়ে কৃষ্ণ দাসের অনুগামীদের বিক্ষোভের ঘটনাও সামনে আসে। যদিও পরে সেই বিরোধ মিটিয়ে একসঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নিয়েছিলেন দুই নেতা। কিন্তু সেই সমঝোতা বেশিদিন টেকেনি—আবারও দূরত্ব, আবারও দ্বন্দ্ব।

২০২৬ সালের ভোটের আগে ফের সেই একই চিত্র। রাজগঞ্জে খগেশ্বর রায়কে টিকিট না দিয়ে স্বপ্না বর্মনকে প্রার্থী করা নিয়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। ক্ষোভ এতটাই বাড়ে যে দল ছাড়ার জল্পনাও তৈরি হয়। কারণ, স্বপ্না বর্মনের নির্বাচনী দায়িত্ব কার্যত নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন কৃষ্ণ দাস—যা নিয়ে অস্বস্তি বাড়ে খগেশ্বর শিবিরে।এই পরিস্থিতিতেই শিকারপুর অঞ্চলের হরি মন্দিরে এক কর্মীসভায় দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। হাসিমুখে গলা মিলিয়ে একসঙ্গে সভা করছেন কৃষ্ণ দাস ও খগেশ্বর রায়। কর্মীদের উদ্দেশ্যে ঐক্যের বার্তাও দেন তাঁরা।

তবে এই সভা থেকেই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। কৃষ্ণ দাস ঘোষণা করেন, ১লা এপ্রিল রাজগঞ্জে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় ভিড় বাড়াতে প্রতিটি অঞ্চলকে দলীয়ভাবে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রতিটি অঞ্চলে ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। আর এই ঘোষণার পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর এভাবে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কি আদৌ বৈধ?নির্বাচনী আচরণবিধি জারি থাকাকালীন ভোটারদের প্রভাবিত করতে আর্থিক প্রলোভন বা সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া আইনত নিষিদ্ধ। 

WB Voter Supplementary List: নির্বাচন আবহে প্রকাশিত চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট, কীভাবে দেখবেন?

সেই জায়গা থেকেই বিরোধীরা সরব হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এটি সরাসরি ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের সামিল।যদিও শাসকদলের তরফে দাবি, এটি সাংগঠনিক খরচের অংশ, ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রলোভন নয়।এই প্রসঙ্গে বিজেপির কটাক্ষ, সমস্ত কিছুই নির্বাচন কমিশন লক্ষ্য করছে। সঠিক সময়ে সঠিক উত্তর মিলবে।ফলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বিষয়টি ইতিমধ্যেই কমিশনের নজরে নিয়ে আসা প্রয়োজন ।

এদিন বিরোধী প্রার্থী হারাধন সরকারকেও নিশানা করেন কৃষ্ণ দাস। পাল্টা বিজেপির উত্তর মণ্ডল সভাপতি তপন রায়ের অভিযোগ, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ‘সমঝোতার নাটক’। তাঁর দাবি, প্রতিবার ভোটের আগে খগেশ্বর রায় ও কৃষ্ণ দাস এক হয়ে যান। এবার স্বপ্না বর্মনকে সামনে রেখে নিজের রাজনৈতিক জমি শক্ত করার চেষ্টা চলছে। জলপাইগুড়িতে হারের আশঙ্কা বুঝেই রাজগঞ্জকে টার্গেট করা হয়েছে।বিজেপির আরও দাবি, স্বপ্না বর্মন কার্যত ‘নামমাত্র প্রার্থী’, আসল লক্ষ্য অন্যত্র রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানো। তবে সাধারণ মানুষ এবার আর এই কৌশলে পা দেবে না বলেই দাবি তাদের।

ভোটের আগে হঠাৎ এই ‘মানভঞ্জন’, তার সঙ্গে টাকার ঘোষণা—সব মিলিয়ে রাজগঞ্জের রাজনীতিতে চড়ছে উত্তাপ। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ নেয় এবং এর প্রভাব ভোটবাক্সে কতটা। 

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।