সিএএ বিরোধী ধরনা মঞ্চে এবার ব্য়বহার করা  হল মনীষীদের ছবি। শাসক- বিরোধীদের তরজায় নাম জুড়ে দেওয়া হল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্য়াসগরের। নদিয়ার  পলাশিতে এই ধরনা মঞ্চ ঘিরে শুরু হয়ে গেল জোর  বিতর্ক। 

শাহিনবাগের পথেই এ বার সিএএ, এনআরসি ও এনপিআর নিয়ে ধর্নায় নদিয়ার পলাশি। দিল্লির শাহিনবাগ ও কলকাতার পাক সার্কাসের পথ অনুসরণ করে এ বার পলাশির মানুষ অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্নায় বসলেন। শনিবার বিকেল তিনটের সময়ে ধর্না মঞ্চের উদ্বোধন হয়। ধর্নার উদ্যোক্তারা জানান, এই প্রতিবাদে একেবারেই এলাকার সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছেন। এরা সকলেই যে কোনও ধরনের সাম্প্রদায়িক ভাগাভাগির বিরুদ্ধে।

দিল্লির শাহিনবাগের পথেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সিএএ-বিরোধী অবস্থান-বিক্ষোভ-প্রতিবাদ-মিছিলে যোগ দিচ্ছেন। লখনউতেও শুরু হয়েছে অবস্থান-প্রতিবাদ। কলকাতার পার্ক সার্কাস, ধর্মতলায়  মুলিম মহিলাদের অনির্দিষ্ট কালের অবস্থান ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে। এখন জেলার বিভিন্ন প্রান্তেও সিএএ-বিরোধী দীর্ঘমেয়াদি ধর্নায় খবর পাওয়া যাচ্ছে। 

দিন তিনেক আগে প্রতিবেশী জেলা মুর্শিদাবাদেও শাহিনবাগের অনুকরণে অনির্দিষ্টকালীন একটি অবস্থান শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই আবার এই জেলার পলাশির মানুষ একজোট হয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন।এই ধর্না-অবস্থানে আয়োজকেরা জানাচ্ছেন, জাতি-ধর্ম-দল-মত নির্বিশেষে সকলে মিলে পলাশি ফুলবাগান মোড়ের কাছে সিএএ, এনপিআর, এনআরসি-র বিরোধিতা করবেন। সেই উদ্দেশ্যেই এই ধর্নামঞ্চের আয়োজন। মঞ্চের নাম দেওয়া হয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু মঞ্চ। এই বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে এই ধর্না মঞ্চের জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।  এনআরসি, এনপিআর, সিএএ-র মতো বিষয়কে সামনে রেখে দেশ যে ভাবে বিভাজনের পথে হাঁটছে, তা রুখতেই একজোট হচ্ছেন পলাশির নাগরিকেরা।