পরিবারের খোঁজ মিলেছিল আগেই। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে থাকতে হচ্ছিল হাসপাতালে। দেড় বছর পর অবশেষে বীরভূমের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন পলাশ পোড়েল।  তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে খুশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও।

হাওড়ার আমতার ছোটামোহারা গ্রামের বাসিন্দা পলাশ পোড়েল। দীর্ঘদিন ধরেই দিল্লিতে অটো চালাতেন তিনি। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, বছর দেড়েক আগে গ্রামে ফিরে আসেন পলাশ। বেশ কয়েকদিন থাকার পর, কেরল যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। আর ফেরেননি। কোথায় গেলেন পলাশ? বাড়ির লোকেদের দাবি, খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে দিল্লিতে যে অটোটি চালাতেন পলাশ, সেই অটোটিও বিক্রি হয়ে গিয়েছেন খবর পান বাড়ির লোকেরা। তাঁকে ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন সকলেই। অবশেষে পলাশ পোড়েলের খোঁজ মেলে বীরভূমের রামপুরহাট মেডিক্য়াল কলেজ ও হাসপাতালে।

আরও পড়ুন: বিবাহ-বহির্ভুত সম্পর্কের অভিযোগ, নদিয়ার হাঁসখালীতে খুন যুবক

কিন্তু কেরলে যাওয়ার নাম করে তো বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। তাহলে রামপুরহাটে কীভাবে পৌঁছলেন পলাশ? পরিবারের লোকেরা খোঁজই বা পেলেন কী করে? জানা গিয়েছে,তারপীঠের এক সাধু তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে যান। সংবাদমাধ্যম থেকে খবর পান পরিবারের লোকেরা। সোমবার রামপুরহাটে এসে পলাশ পোড়েলের সঙ্গে দেখাও করেন তাঁর জামাই। কিন্ত আইনি জটিলতার কারণে ওই ব্য়ক্তিকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া যাচ্ছিল না।  রামপুরহাট মেডিক্য়াল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার শর্মিলা মৌলিক বলেন, ভর্তি হওয়ার সময়ে মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না পলাশ। তবে চিকিৎসায় এখন সেরে উঠেছেন তিনি। রোগীর ইচ্ছাতেই তাঁকে জামাইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন বাদে বাড়ির লোককে ফিরে পেয়ে খুশি পলাশ পোড়েলের পরিবারের লোকেরা। রামপুরহাট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু যাঁকে নিয়ে এত কাণ্ড, তিনি কী বলছেন?পলাশ পোড়েলের প্রতিক্রিয়া,'বৃদ্ধাশ্রম গড়ার লক্ষ্যে ভিক্ষা করতে বাড়ি থেকে বেড়িয়েছিলাম। কিন্তু কিভাবে যে ঘুরতে ঘুরতে তারাপীঠে পৌঁছলাম তা আর মনে
নেই। এখন বাড়ি ফিরে যাচ্ছি জেনেই মন ভালো লাগছে।'