ডেঙ্গু নিয়ে মুখ্য়মন্ত্রীর উদ্বেগ যে যথাযথ তা ফের প্রমাণিত। গতকালের বিধাননগরের পর এবার ডেঙ্গুর বলি হাবড়ার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে হাবড়ার হাটথুবা এলাকায় । 

জানা গিয়েছে,মৃত ওই কিশোরী আসলে কামারথুবা এলাকার বাসিন্দা। কয়েক মাস ধরে হাবড়ার এক নম্বর ওয়ার্ডের হাটথুবা এলাকায়  ভাড়া বাড়িতে থাকত মালার পরিবার। সেখানেই মঙ্গলবার জ্বরে আক্রান্ত হয় মালা বিশ্বাস (১৪)।  মঙ্গলবার সন্ধ্যে নাগাদ তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ।রিপোর্টে ডেঙ্গু ধরা পরায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ তাকে রেফার করা হয় বারাসত জেলা হাসপাতালে ।শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয় । মালা হাবড়ার কামারথুবা নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী । এলাকাবাসীদের দাবি, পুরসভা যদি মাস দুই আগেই তৎপর হয়ে ডেঙ্গু অভিযানে নামত, তাহলে এই সমস্যায় পড়তে হত না । 

তবে শুধু  হাবড়া নয়, এবার ডেঙ্গুর থাবা বসিয়েছে বসিরহাটে। ডেঙ্গু  আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি  হয়েছেন বসিরহাটের স্বরুপনগেরর এক বাসিন্দা। বসিরহাট হাড়োয়ায় এই ব্লক থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ জন । জ্বরে আক্রান্ত আরও ১৫ জন। এরা বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি । গা ব্যথা, বমি ,মাথা যন্ত্রণা জ্বর নিয়ে  হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রোগীরা। ইতিমধ্যে জেলা হাসপাতালের আউটডোরে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে । অন্যদিকে হাসপাতলে ভর্তি ১৫জন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে । আক্রান্ত তনুজা বিবির ছাড়াও বাদুড়িয়ার ফিরোজা বিবি হাড়োয়া সহ ৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি । এ বিষয়ে বসিরহাট জেলা হাসপাতালের সুপার শ্যামল হালদার বলেন, মশা মারার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে।  

শুক্রবার বিধানসভায় খোদ মুখ্য়মন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তবে রাজ্যে ক্রমশ ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় বাংলাদেশের মহামারীকেও কিছুটা দায়ী করেছেন মুখ্য়মন্ত্রী। মমতা জানান, বাংলাদেশের মহামারী আকার নিয়েছে ডেঙ্গু। মূলত সীমান্ত এলাকা সংলগ্ন উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বনগাঁ , হাবরায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্য়া সবথেকে বেশি।  রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ১৭ ছাড়িয়েছে। এরপরই কাল ও আজ মিলিয়ে রাজ্যে আরও ২ জন মৃতের সংখ্য়া বেড়েছে।