সদ্য বসিরহাটের সাংসদ হয়েছেন তিনি। আর সেই বসিরহাটের সন্দেশখালিই রাজনৈতিক হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সাংসদ হিসেবে ঘটনাস্থলে না গেলেও শান্তি ফেরানোর জন্য বার্তা দিলেন এলাকার সাংসদ নুসরত জাহান। নিজের জারি করা বিবৃতিতে এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। 

এবার বসিরহাট থেকে বিপুল ভোটে জিতে সাংসদ হয়েছেন নুসরত। কিন্তু ভোট পরবর্তী হিংসায় গত শনিবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সন্দেশখালির ন্যাজাটের হাটগাছি এবং ভাঙারহাট গ্রাম। তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয় সেখানে। আরও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ বলে অভিযোগ বিজেপি এবং তৃণমূল দু' পক্ষেরই। আতঙ্কে বহু মানুষ ঘরছাড়া। এই অবস্থায় রবিবারই নিজের বিবৃতি জারি করেন এলাকার সাংসদ নুসরত। 
নিজের বার্তায় তিনি লেখেন, "সবার কাছে আবেদন, পুরো বিষয়টাই প্রশাসন দেখছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদদের প্রত্যেকেরই এখন শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে হবে। যে দলেরই সদস্য হোন না কেন, এর মধ্যে কোনও সাম্প্রদায়িক বিষয় টেনে আনবেন না।" একই সঙ্গে নুসরত লিখেছেন, "যাঁরা এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন তাঁদের পরিবারের জন্য আমি প্রার্থনা করছি।"

দায়িত্বশীল সাংসদের মতোই নুসরত আরও লিখেছেন, "মানবতা সবার আগে। বসিরহাট একটি সংবেদনশীল এলাকা এবং মানুষ যাতে ওখানে নিরাপদে থাকতে পারেন, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।"

ভোটে দাঁড়ানোর পর থেকেই অভিনেত্রী নুসরত জাহান এবং মিমি চক্রবর্তীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা রকম মিম ছড়িয়ে পড়ে। ট্রোল করা হতে থাকে দুই নায়িকাকে। এমন কী তাঁরা প্রথমবার সংসদে গিয়ে ছবি তুলে পোস্ট করার পরেও ব্যঙ্গ, বিদ্রুপের শিকার হন। দলীয় নির্দেশ বা অন্য যে কোনও কারণেই হোক, সন্দেশখালির ঘটনার পরে নুসরতকে উত্তপ্ত এলাকায় দেখা যায়নি। যদিও সেখানে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল গিয়েছিল। তবে এলাকায় না গেলেও দায়িত্বশীল সাংসদের মতোই শান্তি রক্ষার বার্তা দিলেন নুসরত।

এবার বসিরহাটে লোকসভা নির্বাচনের ফলের নিরিখে সন্দেশখালিতেও এগিয়ে ছিল তৃণমূল। কিন্তু ভাঙারহাট গ্রামে তৃণমূলের থেকে এগিয়ে যায় বিজেপি।