কলকাতায় ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সের ৮ জনের মধ্যে প্রায় একজন স্থূলকায়। কলকাতার স্কুলগুলিতে চালানো একটি গবেষণায় এই তথ্য সামনে এসেছে।

কলকাতায় ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সের ৮ জনের মধ্যে প্রায় একজন স্থূলকায়। কলকাতার স্কুলগুলিতে চালানো একটি গবেষণায় এই তথ্য সামনে এসেছে। এই বয়সের ছেলে মেয়েদের মধ্যে ভুল জীবনযাত্রা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে এই প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। বুধবার শহরে বিশ্ব স্থূলতা দিবস পালিত (World Obesity Day) হয়েছে। হাওড়া ব্রিজ সন্ধ্যায় নীল ও হলুদ আলোয় আলোকিত হয়েছিল, যা স্থূলতা সচেতনতার প্রতীক। মেটা দানা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একটি আলোচনায় সারা বিশ্বের ডাক্তাররা অংশগ্রহণ করেছিলেন।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটা দানা ফাউন্ডেশনের (Metta Dāna Foundation) এন্ডোক্রিনোলজিস্ট এবং চেয়ারম্যান দেবাশিস বসু বলেন "শিশুদের স্থূলতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, স্কুলে যাওয়া শিশুদের মধ্যে এর প্রকোপ ১৯৭৫ সালে ৪% থেকে বেড়ে ২০২২ সালে প্রায় ২০% হয়েছে (পাঁচ দশক ধরে পাঁচগুণ বৃদ্ধি)। ভারত ও বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে এই বৃদ্ধি সবচেয়ে তীব্র। শৈশবকালীন স্থূলতা প্রায়শই প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও অব্যাহত থাকে, যা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং কিছু ক্যান্সারের মতো গুরুতর অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায় (১৩%)। দীর্ঘস্থায়ী রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলি ইতিমধ্যেই আজ শিশুদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে।"

তিনি আরও যোগ করেন যে MDF এবং কলকাতার অন্যান্য সংস্থার গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে শহরের তরুণ জনসংখ্যা স্থূলকায় হয়ে উঠছে, যা তাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে ফেলেছে। বসু বলেন, "কলকাতার প্রায় এক চতুর্থাংশ শিশু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বা প্রি-ডায়াবেটিক পর্যায়ে রয়েছে।"

ল্যানসেটে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে বিশ্বব্যাপী ২০৫০ সালের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক এবং এক তৃতীয়াংশ শিশু ও কিশোর-কিশোরী অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলকায় হয়ে পড়বে। এতে আরও বলা হয়েছে যে, স্থূলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে আনুমানিক ২১.৮ কোটি পুরুষ এবং ২৩.১ কোটি মহিলা অতিরিক্ত ওজনের বা স্থূলকায় হয়ে পড়বেন। সংখ্যাটা মোট ৪৪.৯ কোটি, যা দেশের জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ। ভারতে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সের স্থূলকায় শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের সংখ্যা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হবে বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে অনুমান করা হচ্ছে যে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ অতিরিক্ত ওজনের ছেলে এবং ১ কোটি ৪০ লক্ষেরও বেশি অতিরিক্ত ওজনের মেয়ে রয়েছে।

বিদেবাশিস বসু জানান, বিশ্বব্যাপী বিশ্ব স্থূলতা দিবস বৃহৎ পরিসরে পালিত হলেও, ২০২০ সালের পর থেকে ভারতে স্থূলতা সম্পর্কে খুব কমই কোনও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান দেখা গেছে। যার কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে।