ছেলের নাম সাধ করে রেখেছিলেন চন্দ্রকান্ত। সেদিন হুগলির গুরাপের শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা মধুসূদন কুমার এবং অসীমা কুমার ভাবেননি, একদিন ভারতের ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযানে অবদান রাখবেন তাঁদের ছেলেও। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকবেন বলেই এ দিন সকালে বাড়ির খারাপ টিভিটা সারিয়ে নিয়েছেন চন্দ্রকান্ত কুমারের বাবা- মা। চন্দ্রযান- ২- এর অ্যান্টেনা তৈরি করার দায়িত্বে ছিলেন এই চন্দ্রকান্ত কুমারই। 

যেদিন চন্দ্রযান পাড়ি দিয়েছে, তখন থেকেই প্রচারের আলোয় হুগলির গুরাপে চন্দ্রকান্ত কুমারের বাড়ি। যে ঐতিহাসিক অভিযানের সঙ্গে ছেলে জড়িয়ে, তা যাতে সফল হয়, গত কয়েকদিন ধরে সেই প্রার্থনাই করেছেন অসীমাদেবী এবং মধুসূদনবাবু। অবশেষে সেই বহু প্রতীক্ষিত দিনটি উপস্থিত। চন্দ্রযান যে সফলভাবে চাঁদের মাটি ছোঁবে, সে বিষয়ে একরকম নিশ্চিত বৃদ্ধ দম্পতি। শুক্রবার সকাল থেকেও তাই নিশ্চিন্তেই ছিলেন তাঁরা। 

এ দিন সকালেও বাড়িতে রোজকার মতো গরুর খাবার গুছিয়ে দিয়েছেন মধুসূদনবাবু। আর রান্নাবান্না-সহ বাড়ির যাবতীয় কাজ সেরেছেন অসীমাদেবী। কিন্তু তার মধ্যেই বিপত্তি বেঁধেছিল বাড়ির টেলিভিশন সেট নিয়ে। গত কয়েকদিন ধরেই খারাপ হয়ে পড়েছিল তা। শেষ পর্যন্ত এ দিন সকালেই সেই টেলিভিশ সেট সারিয়ে নিয়েছেন মধুসূদনবাবু। রাতে চন্দ্রযান চাঁদের মাটি ছোঁয়ার মুহূর্ত ওই টিভি-তেই দেখবেন তাঁরা। শুধু তাঁরা কেন, গোটা শিবপুরই এ দিন রাত জাগবে।

মধুসূদনবাবুর দুই ছেলে। বড় ছেলে চন্দ্রকান্তের মতো ছোট ছেলে শশীকান্তও ইসরোতেই কর্মরত। দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন দুই ভাই। চন্দ্রাভিযান সফল হয়ে ইতিহাসে নাম উঠে যাবে চন্দ্রকান্তেরও।