উত্তম দত্ত, হুগলি:  এভাবে আর কতদিন! ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙল অবশেষে। করোনা আতঙ্কে মাঝে লোকাল ট্রেন চালুর দাবিতে এবার একযোগে হুগলি ও পানডুয়া স্টেশনে বিক্ষোভ দেখালেন নিত্যযাত্রীরা। লাল কাপড় দেখিয়ে, এমনকী পাথর ছুঁড়ে রেলকর্মীদের স্পেশাল ট্রেন আটকে দিলেন বিক্ষোভকারীরা। 

আরও পড়ুন: আম্ফানের থাবায় ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরবন, ভূমিক্ষয় রোধে শুরু হল ম্যানগ্রোভ রোপণ কর্মসূচী

করোনা আতঙ্কের মাঝে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দ ফিরছে জনজীবনে। সম্প্রতি আনলক ৫-এর নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। নয়া নির্দেশিকায় কনটেইনমেন্ট জোনের বাইরে সিনেমা হল, থিয়েটার, মাল্টিপ্লেক্স, এমনকী, বিনোদন পার্কগুলি খোলার অনুমতি মিলেছে। কিন্তু লোকাল ট্রেন পরিষেবা কবে থেকে চালু হবে? তা এখনও স্পষ্ট নয়।

করোনা সতর্কতায় যবে থেকে লকডাউন চলছে, তবে থেকে স্রেফ কর্মীদের হাতেগোনা কয়েকটি স্পেশাল ট্রেন চালাচ্ছে রেল। প্রথম দিকে সেই ট্রেনে সাধারণ যাত্রীরা উঠতেন না। কারণ, তখন সবকিছু বন্ধ ছিল। কিন্তু আনলক পর্ব শুরু হতেই ছবিটা বদলে যায়। আর এখন তো জনজীবন কার্যত স্বাভাবিকই বলা চলে। ফলে রুটি-রুজির টানে শহরতলি থেকে বহু মানুষকে নিত্যদিন কলকাতায় যেতে হচ্ছে। কিন্তু সকলের পক্ষেই যে সরকারি বাসে চেপে যাতায়াত করা সম্ভব, তা কিন্তু নয়। তাহলে উপায়? নিরুপায় হয়ে রেলকর্মীদের স্পেশাল ট্রেনে উঠে পড়ছিলেন সাধারণ যাত্রীরাও।

আরও পড়ুন: কলকাতার অদূরেই সপ্তাহান্তের ভ্রমণের সেরা ঠিকানা, হাতছানি দিচ্ছে 'ছবির দেশ' ছোট্ট গ্রাম জয়পুর

নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, স্পেশাল ট্রেনে উঠতে গিয়ে পুলিশি হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে। এমনকী, অনেক সময়ে জোর করে ট্রেন থেকে নামিয়েও দেওয়া হচ্ছে। বস্তুত, সোনারপুর যাত্রীদের বিক্ষোভের পর নিয়মের কড়াকড়ি আরও বেড়েছে। রবিবার সকালে হুগলি পানডুয়া স্টেশনে স্পেশাল ট্রেন ঢুকতেই রেললাইনে বসে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আরপিএফ। কোনওমতে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। হুগলি স্টেশনে আবার লাল কাপড় দেখিয়ে ও পাথর ছুঁড়ে ট্রেন আটকান বিক্ষোভকারীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, হুগলিতে কিন্তু এখনও বিক্ষোভ চলছে।