পত্রলেখা বসু চন্দ্র, পূর্ব বর্ধমান: পেঁয়াজের বিনিময়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল প্লাস্টিক। এবার সেই প্লাস্টিক দিয়েই তৈরি হচ্ছে ইট। প্লাস্টিক দূষণ রুখতে এমনই অভিনব ভাবনা নিল পূর্ব বর্ধমানের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তাদের দাবি, এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ রোধ হবে, তার পাশাপাশি অনেক সস্তায় তৈরি করা যাবে ইটও।

অপুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দিয়েই ইটের পাশাপাশি ফুলের টব, ফ্লোর টাইলস তৈরি করা যায়। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই প্লাস্টিক সংগ্রহ করে তা দিয়ে ইট তৈরি শুরু করল বর্ধমানের পাল্লারোড পল্লীমঙ্গল সমিতি। প্রথম দিনের চেষ্টায় সেই পরীক্ষা সফলও হয়েছে। 

ওই সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, অনেকদিন ধরেই প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর উপায় ভাবছিলেন তাঁরা। সেই পরিকল্পনা মতো বর্ধমান কৃষি মেলায় তিন কেজি প্লাস্টিকের বিনিময়ে এক কেজি করে পেঁয়াজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক জমা হয় ওই সংগঠনের কাছে। 

আদতে বর্ধমানের জামালপুরের বাসিন্দা রাজু হালদার নামে এক বিজ্ঞানীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় সংগঠনের সদস্যদের। রাজু হালদার নামে ওই বিজ্ঞানী বর্তমানে জার্মানিতে থাকেন। রাজুবাবুর পরামর্শেই প্লাস্টিক দিয়ে ইট তৈরির সিদ্ধান্ত নেন সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, খুব সহজেই প্রচণ্ড তাপে প্লাস্টিক গলিয়ে তার সঙ্গে বালি এবং কয়েকটি সহজলভ্য উপাদান মিশিয়ে এই পরিবেশবান্ধব ইট তৈরি করে ফেলা যায়। রবিবার সকালে নিজেরাই ইট তৈরির চেষ্টা করেন সংগঠনের সদস্যরা। প্রথম দিন বেশ কিছু ইট তৈরিও করে ফেলেছেন তাঁরা। অদূর ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যায় এই ইট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে ওই সংগঠনের। 

সংগঠনের এক সদস্য বলেন, 'এই ইট তৈরি করা খুবই সহজ। বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদন শুরু করতে গেলে প্রথমে আমাদের কুড়ি থেকে পঁচিশ হাজার টাকা প্রয়োজন। সেই টাকার সংস্থান হয়ে গেলেই আমরা কাজ শুরু করে দেব। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনারও পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। সাধারণ ইট দিয়ে যা যা কাজ করা যায়, সেই সমস্ত কাজেই এই পরিবেশবান্ধব ইট ব্যবহার করা যাবে।'

সংগঠনের সদস্যদের দাবি, প্রতিটি ইট তৈরিতে খরচ পড়বে দুই থেকে আড়াই টাকা। পাঁচ থেকে ছ' টাকা দামে তা বিক্রি করা যাবে।