সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। 'বন্দে মাতরম'-এর ১৫০ বছর পূর্তির কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তাঁরা।
সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার 'বন্দে মাতরম'-এর স্রষ্টাকে স্মরণ করে মোদী বলেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন এক বিশাল মাপের সাহিত্যিক, যাঁর লেখা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারতীয়দের মনে দেশপ্রেম আর সাংস্কৃতিক গর্বের আগুন জ্বালিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর স্মরণে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, এই বছর 'বন্দে মাতরম' গানটির ১৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে। তাঁর কথায়, এই গানের মাধ্যমে বঙ্কিমচন্দ্র ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং দেশকে এক চিরস্থায়ী অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টে মোদী বাংলায় লেখেন, “মহান বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জয়ন্তীতে তাঁকে প্রণাম। এক বিশাল সাহিত্যিক হিসেবে তাঁর লেখা ভারতীয়দের মধ্যে দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক গর্বের চেতনা জাগিয়েছিল। তাঁর সমৃদ্ধ সাহিত্যকর্ম আমাদের মনকে আলোকিত করে এবং জাতি গঠনে আমাদের সম্মিলিত সংকল্পকে শক্তিশালী করে। এই বছর আমরা 'বন্দে মাতরম'-এর ১৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করছি। 'বন্দে মাতরম'-এর মাধ্যমে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলন এবং আমাদের জাতিকে অন্যতম স্থায়ী অনুপ্রেরণা উপহার দিয়েছেন।”
অমিত শাহের স্মরণে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বঙ্কিমচন্দ্রকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “মহান সাহিত্যিক এবং সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীতে আমি তাঁকে স্মরণ করি এবং শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর অমর সৃষ্টি 'আনন্দমঠ'-এর মাধ্যমে বঙ্কিমচন্দ্র মাতৃভূমির প্রতি ভক্তি, ত্যাগ এবং জাতীয় চেতনার বার্তা দিয়েছিলেন। 'বন্দে মাতরম' রচনা করে তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নতুন শক্তি, অনুপ্রেরণা এবং আদর্শগত ভিত্তি দিয়েছিলেন। আজ 'বন্দে মাতরম'-এর ১৫০ বছর পূর্ণ হলেও, এটি সারা দেশে তার আসল রূপে জাতীয় ঐক্য এবং আত্মগর্বের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।”
শুভেন্দু অধিকারীর শ্রদ্ধা
অন্যদিকে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। কলকাতা শহরের কলেজ স্ট্রিটে বঙ্কিমচন্দ্রের বাসভবনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এক্স-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “সাহিত্যসম্রাটের রচিত অমর সঙ্গীত, ভারতের জাতীয় স্তোত্র 'বন্দে মাতরম'-এর ১৫০তম বার্ষিকী আমরা এই বছর পালন করছি। তাঁর সাহিত্যিক উত্তরাধিকার এবং দেশপ্রেমের আদর্শ আজও আমাদের জাতীয় চেতনাকে অনুপ্রাণিত করে। বঙ্কিমচন্দ্র শুধু বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেননি, তাঁর লেখার মাধ্যমে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বীজও বপন করেছিলেন। তাঁর অমর সৃষ্টি ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে। সাহিত্যসম্রাটকে আমার বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।”


