পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে তারকেশ্বর থেকে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সঙ্গে থেকে যাওয়ার নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায়ের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। 

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে তারকেশ্বর থেকে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সঙ্গে থেকে যাওয়ার নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায়ের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি রাজ্যে বিজেপি সরকার উন্নয়নের গতি বাড়িছে বলেও দাবি করেন। পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে পড়েছে বলে অভিযোগের আঙুল তোলেন কংগ্রেস, কমিউনিস্ট আর তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করতে ও যোগ দিবসেব অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুই দিনের সফরে রাজ্যে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারকেশ্বরের সভামঞ্চে তাঁকে ডোকরার দুর্গামূর্তি দিয়ে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারকনাথের একটি ছবিও মোদীকে উপহার দেন। মোদীর হাতে তুলে দেন রসগোল্লা আর জলভরা সন্দেশও। পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন নিয়ে বিতর্ক ছিল। আগে তৃণমূল সরকার পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করত ১ বৈশাখ। পরে সরকার বদল হওয়ার পরে ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করার হবে বলে স্থির হয়। এই প্রথম বিজেপি সরকার দিনটি পালন করল।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস

উল্লেখ্য, 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস' হল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা দিবস, যা প্রতি বছর ২০ জুন পালিত হয়। এই দিনটি রাজ্যের অনন্য সাংস্কৃতিক পরিচয়, ইতিহাস এবং যে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এর গঠন হয়েছিল, তাকে সম্মান জানায়। ২০ জুনের তাৎপর্য ১৯৪৭ সালের সঙ্গে জড়িত। এই দিনে, মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলা ভাগের উপর ভোটাভুটির জন্য বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলিতে বৈঠক বসে। হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার সদস্যরা, যা পরে পশ্চিমবঙ্গ হয়, ভারতের সঙ্গে থাকার পক্ষে বিপুলভাবে ভোট দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার সদস্যরা হয় অবিভক্ত থাকার পক্ষে বা যা পরে পূর্ব পাকিস্তান (এখন বাংলাদেশ) হয়, তার সঙ্গে যোগ দেওয়ার পক্ষে ভোট দেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'কলকাতার হিংসায় কত কত বাঙালির মৃত্যু হয়েছিল। তারপর হয়েছিল নোয়াখালির দাঙ্গা। এখানকার মানুষ মাতভূমিকে টুকরো হতে দেখেছিল। পুরো পশ্চিমবঙ্গকে ভারত থেকে আলাদা করে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তা হতে দেননি। সেদিন তিনি না থাকলে আজকের পশ্চিমবঙ্গ হতো না। কংগ্রেস তো হাল ছেড়ে দিয়েছিল।' একই সুর শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। তিনি বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায়ের অবদানকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কংগ্রেস-কমিউনিস্ট আর তৃণমূল সরকার। শুভেন্দু অধিকারী শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি তৈরি হবে বলেও ঘোষণা করেছেন।