সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণের ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিষেক বা তৃণমূলের তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু করে পুলিশ। তার ভিত্তিতেই এই ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাতভর তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে সোনারপুর থানার পুলিশ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণের ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিষেক বা তৃণমূলের তরফে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু করে পুলিশ। তার ভিত্তিতেই এই ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাতভর তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে সোনারপুর থানার পুলিশ। হামলার ভিডিও ফুটেজও খতিয়ে দেখা হয়। সেই ভিডিওর সূত্র ধরেই ওই ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রাথমিক খবর। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে তপন মাইতি ও আকাশও রয়েছে, যাদের ঘটনা-সম্পর্কিত ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ।

শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে নিহত তৃণমূলকর্মীকে দেখতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর, ডিম ও জুতো ছোড়া হয়। চলে দেদার কিল, চড়। অভিষেককে হেলমেট পরিয়ে বের করে পুলিশ। যদিও তার পরেও সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সেই বাড়ি থেকে তিনি বার হন পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে। সোনারপুর থেকে প্রথমে তাঁকে বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ডাক্তারদের তরফে জানানো হয়, ভর্তির প্রয়োজন নেই। এরপর মিন্টো পার্কের ধারে আর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও একই কথা বলা হয়। হাসপাতাল ভর্তি নেয়নি অভিষেককে। বেশি রাতে মমতা জানান, অভিষেককে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালের প্রশাসন এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, অভিষেকের শারীরিক অবস্থা যদি গুরুতর না-ই হয়ে থাকে, তবে তাঁকে কেন আইসিইউ-তে রাখা হয়েছিল? আর যদি তাঁর অবস্থা গুরুতর হয়ে থাকে, তবে এখন কেন চাপের মুখে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হল? তিনি এই ঘটনাকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের গাফিলতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "ওর (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের) শরীরে রক্তের জমাটবাঁধা দলা (blood clots) রয়েছে। যদি ওর মাথায় হেলমেট না থাকত, তবে অভিষেক ঘটনাস্থলেই মারা যেত।" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, "অভিষেকের চিকিৎসা এখন বাড়িতেই চলবে—ঠিক যেমনটা হাসপাতালে হয়ে থাকে। সেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হবে। অভিষেকের যদি কিছু হয়, তবে তার দায় হাসপাতালকেই নিতে হবে।"

মমতা সমগ্র পরিস্থিতিটিকে 'গণতন্ত্রের হত্যা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন যে, এই সরকার পরিবর্তিত হয়নি, বরং একে জোরপূর্বক প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। বাংলার স্থানীয় নেতাদের লক্ষ্য করে তিনি বলেন যে, দিল্লির বিজেপি নেতারা বাংলার নেতাদের মতো এতটা খারাপ নন। তিনি সিআইডি-কেও 'ভীরু' বলে আখ্যায়িত করেন।