অভিযোগ ছিলই। শান্তিপুরে তৃণমূল কর্মী খুনে এবার খোদ বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হল। ঘটনার তদন্তে নেমে একজন অভিযুক্তকে আটকও করেছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার। দুপুরে শান্তিপুরের ব্রহ্মতলায় একটি চা-এর দোকানে বসেছিলেন শান্তনু মাহাত ওরফে গণা নামে এক তৃণমূল কর্মী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মুখে কাপড় বেঁধে এলাকায় ঢোকে ১০-১৫ জন দুষ্কৃতী। কিছু বুঝে ওঠার আগে শান্তনুকে ঘিরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করে তারা। রক্তাক্ত অবস্থায় যখন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই তৃণমূল কর্মী, তখন বোমাবাজি করতে করতে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। গুরুতর আহত শান্তনুকে উদ্ধার করে প্রথমে শান্তিপুর মহকুমা হাসপাতালে  নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু শারীরিক অবস্থায় আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। শান্তিপুর থেকে কৃষ্ণনগর নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান  তৃণমূল কর্মী শান্তনু মাহাত।

আরও পড়ুন: সিবিআই -এ রদবদল, চিটফান্ড তদন্তের মূল অফিসারদের বদলি

এদিকে এই ঘটনা খোদ শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্যের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন মৃতের পরিবারের লোকেরা। তাঁদের দাবি, পুরসভার চেয়ারম্যান অজয় দে-র অনুগামী ছিলেন শান্তনু। তাঁকে নিজের দিকে টানার জন্য নানাভাবে চাপ দিচ্ছিলেন বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য।  এমনকী, বিধায়কের মদতে ওই তৃণমূলকর্মীকে মিথ্যা মামলায় জেলেও যেতে হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু বিধায়কের গোষ্ঠীতে যোগ দিতে রাজি হননি শান্তনু, তাই তাঁকে খুন করা গিয়েছে। অন্তত তেমনই দাবি পরিবারের লোকেদের।  মৃতের স্ত্রী-র অভিযোগ, পরিকল্পনামাফিক খুনের আগে রাস্তায় সিসিটিভিগুলিও নষ্ট করে দেয় অভিযুক্ত।  বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য অবশ্য সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। বস্তত, নিহত শান্তুনু মাহাতকে দলের কর্মী বলেও মানতে রাজি নন তিনি।