প্রকাশ্য সভা থেকে তৃণমূল নেতাদের গুলি করে মারার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বীরভূমের বিজেপি জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডলের বিরুদ্ধে স্বতোঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করল পুলিশ। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩, ৫০৫, ৫০৬, ১১৫, ১১৭, ৩৪ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-এর ৩২ ধারায় বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পাল্টা পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতা শ্যামাপদ মণ্ডল। 

শনিবার বীরভূমের সাঁইথিয়ায় নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে মিছিল এবং সভা করে বিজেপি। অভিযোগ, সেই সভা থেকেই তৃণমূল নেতাদের গুলি করে মারার হুঁশিয়ারি দেন বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, সাঁইথিয়ায় তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতা বিজেপি কর্মী, সমর্থকদের উপরে হামলা চালাচ্ছে। 

শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, 'বুনো হাতি ক্ষেপে গিয়ে যখন তাণ্ডব চালায় বা মানুষ খুন করে তখন আমরা বন দফতরে খবর দিই। বন দফতর থেকে এসে প্রথমে হাতিকে ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করে। তাতেও হাতি না ঘুমোলে তখন গুলি করে মারা হয়। সেরকমই এই সাঁইথিয়ায় তৃণমূলের তিন চার জন নেতা আছে যারা গুন্ডামি করে, ঘরবাড়ি ভাঙে, আমাদের কার্যকর্তাদের মারধর করে। আমি আমাদের কার্যকর্তাদের বলব, আপনারাও প্রথমে এদের ঘুমপাড়ানি গুলি করুন। তাতেও কাজ না হলে চিরতরে ঘুম পাড়়িয়ে দিন।'

বিজেপি নেতার এই বক্তব্যের বিরুদ্ধেই স্বতোঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে বীরভূম জেলা পুলিশ। বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে খুনের হুমকি, দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টার মতো একাধিক ধারায় মামলা করেছে পুলিশ। এর মধ্যে কয়েকটি জামিন অযোগ্য ধারাও রয়েছে। তৃণমূল বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। শাসক দলের অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের কাছে বোমা, গুলি মজুত করা আছে বলেই এমন দাবি করেছেন বিজেপি নেতা। 

বিজেপি নেতা শ্যামাপদ মণ্ডলের পাল্টা প্রশ্ন, 'বীরভূমের রাজনীতিতে টিকে থাকতে গেলে তৃণমূলের ভাষাতেই তাদের জবাব দিতে হবে। অনুব্রত মণ্ডল যখন পুলিশকে বোমা মারার কথা বলেন, তখন তো পুলিশ মামলা করে না। তৃণমূলের সঙ্গে লড়তে গিয়ে যদি এরকম মামলা পুলিশ দেয়, তাহলে তা মাথা পেতে নেব।'