চুরি করা দামি ক্যামেরা দ্রুত বিক্রি করে টাকা কামানোর লোভ সামলাতে পারেনি চোর। দামি ক্য়ামেরা চুরির করার পর পরই অনলাইন-এ তা বিক্রি করতে গিয়েই কাল হলো। পুলিশের পাতা ফাঁদে হাতেনাতে ধরা পড়ে গেল দুই চোর। উদ্ধার হলো চুরি হওয়া দু'টি দামি ক্যামেরা এবং লেন্স। 

ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার সোনারপুরে। বেলেঘাটার বাসিন্দা সৌরিশ বসুর অভিযোগ, গত ৪ ফেব্রুয়ারি সোনারপুরের একটি বিয়েবাড়িতে ছবি তুলতে এসেছিলেন তিনি এবং তাঁর দুই বন্ধু। কাজ শেষ হওয়ার পর খাওয়াদাওয়ার সময়ই তাঁদের ক্যামেরার দু'টি ব্যাগ চুরি যায় বলে অভিযোগ। ব্যাগে ক্যামেরা ছাড়াও ছিল বেশ কয়েকটি দামি লেন্স। সবমিলিয়ে দু'টি ব্যাগে আড়াই লক্ষ টাকার সামগ্রী ছিল বলে দাবি করেন সৌরিশ। 

ঘটনার পরই সৌরিশ এবং তাঁর এক বন্ধু সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। যদিও চোরের একটি ভুলই পুলিশের কাজটি সহজ করে দেয়। ক্য়ামেরা চুরি যাওয়ার পর পুরনো জিনিসপত্র কেনাবেচার একটি অনলাইন সাইট-এ নজর রাখছিলেন সৌরিশ। আর তা করতে গিয়েই তিনি নিজের ক্যামেরার খোঁজ পান সেখানে। চুরি যাওয়া ক্যামেরা এবং লেন্স বিক্রির জন্য সেখানে বিজ্ঞাপন দেয় চোর।

দ্রুত বিষয়টি সোনারপুর থানার তদন্তকারী অফিসার-কে জানান সৌরিশ। পুলিশের পরামর্শেই ওই চোরের সঙ্গে ক্রেতা সেজে যোগাযোগ করেন সৌরিশ। ক্যামেরার বেচার লোভে শনিবার গড়িয়ার শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনের কাছে আসে আব্দুল রফিক নামে এক যুবক। সেখানেই হাতেনাতে তাকে ধরে ফেলে পুলিশ। এর পর রফিককে জেরা করে শনিবার গড়িয়ার শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশানের কাছে গিয়ে অর্ণব ভৌমিক নামে মূল অভিযুক্তকে ধরে ফেলে পুলিশ। তাদের কাছ থেকেই চুরি যাওয়া ক্য়ামেরা, লেন্স সহ সমস্ত সামগ্রী উদ্ধার হয়। ধৃতদের এ দিন বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে ধৃত অর্ণবের বিরুদ্ধে এর আগেও বিয়ে বাড়ি থেকে জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের তৎপরতায় চুরি যাওয়া ক্যামেরা, লেন্স ফিরে পেয়ে সোনারপুর থানার পুলিশকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন সৌরিশ।