ফের আক্রান্ত পুলিশ, এবার উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায়। দুষ্কৃতীকে ধরতে গিয়ে উল্টে  দুষ্কৃতীদের হামলায় গুরুতর আহত হলেন দুই পুলিশ অফিসার। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধারালো অস্ত্রের ঘায়ে আহত ওই এসআই-এর নাম প্রবীণ গুরুং। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে শিলিগুড়ির একটি নার্সিং হোমে ভর্তি তিনি। এই ঘটনায় পিন্টু বর্মণ নামে অন্য এক অফিসারের পেটেও গুলি লাগে। তবে বরাতজোরে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।  এই ঘটনায় ছ' জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

পুলিশসূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে চোপড়া থানার পুলিশ লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে সদাগর নামে এক দুস্কৃতীকে ধরতে যায়। অভিযোগ, সদাগরের বাড়িতে চোপড়া থানার পুলিশ পৌছলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছুড়তে থাকে ওই দুষ্কৃতী এবং তার সহযোগীরা। প্রবীন গুরুং নামে এক এসআই- এর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দুষ্কৃতীরা। আহত ওই অফিসারের আঘাত যথেষ্ট গুরুতর বলেই পুলিশ সূত্রে খবর।  চোপড়া থানার আর এক এসআই পিন্টু বর্মণকে লক্ষ্য করেও গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। তবে গুলি তাঁর পেট ছুঁয়ে বেরিয়ে যাাওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ওই অফিসারকে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গুরুতর জখম অবস্থায় পিন্টু বর্মণ ও প্রবীণ গুরুংকে প্রথমে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রবীণ গুরুংয়ের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নাসিং হোমে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ইসলামপুর থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ছুটে আসে। পরে সদাগর-সহ বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করে চোপড়া থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, সদাগরের বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন সমাজবিরোধী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ ছিল পুলিশের কাছে।  

পুলিশ সুপার সুমিত  কুমার  জানিয়েছেন,  সদাগরের বিরুদ্ধে  পুলিশের কাছে একাধিক মামলা  রয়েছে। পুলিশের উপরে হামলা চালানোর অভিযোগে আরও বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের খোঁজে সন্ধান চলছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।  এ দিন শিলিগুড়ির নার্সিং হোমে আহত পুলিশ অফিসারকে দেখতে যান পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। 

গত কয়েক বছরে বার বারই দুষ্কৃতী ধরতে গিয়ে এমন হামলার মুখে পড়তে হয়েছে পুলিশকে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় কর্ণ নামে এক দুষ্কৃতীকে ধরতে গিয়ে মৃত্যু হয় এক নবকুমার হাইত নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের। একইভাবে হাওড়ার শ্যামপুর থানার আইসি-র উপরেও বছর দেড়েক আগে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই অফিসার।