নৈহাটির বাজি কারখানায় বড় সড় বিস্ফোরণে  ৫ জনের মৃত্যুর পর পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। যার জেরে নৈহাটির ওই দেবক এলাকার বাসিন্দারা ভয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ছিল, ওই গ্রামে আরও বেআইনি বিস্ফোরক থাকতে পারে। শেষ অবধি সেই সম্ভাবনাই সত্য়ি হয়ে দাড়াল। একাধিক বাড়ি থেকে পুলিশ উদ্ধার করল বিপুল পরিমানে বিস্ফোরক। যা রীতিমত বিপদজ্জনক। তাই এই মুহূর্তে সেই বেআইনি বিস্ফোরক গুলিকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে গিয়ে সিআইডির বোম্ব স্কোয়ার্ড নিস্ক্রিয় করার কাজ চালাচ্ছেন।

আরও পড়ুন, জেএনইউ-তে হামলা গণতন্ত্রের লজ্জা, টুইটারে তীব্র ক্ষোভ মমতার


সম্প্রতি নৈহাটির দেবক গ্রামে  বাজি কারখানায়  ওই বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, প্রায় ১০ কিমি বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে মৃদু ভূকম্পণ হয়। শুধু তাই নয় গঙ্গার অন্য়পারের বাসিন্দারাও কেঁপে ওঠে ওই বিস্ফোরণে। চূচূড়ার প্রেমনগর, আখড়াবাজার সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষজন জানিয়েছিলেন যে, এই বিস্ফোরণে রীতিমত তারাও কম্পন অনুভব করেছেন। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলেছিল এই বিস্ফোরণ। ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণের বেশ কয়েক ঘন্টা পর উদ্ধার করা হয়েছিল ৫ জন শ্রমিককে । তারপর তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে ৫ জন-ই মারা যান। আর ঘটনার পরই নড়ে চড়ে বসে রাজ্য় পুলিশ প্রশাসন। কারণ এক বছর আগেও ওই একই জায়গায় বাজি  ওই বিস্ফোরণে মারা গিয়েছিল ৫ জন। তারপরেও কীভাবে এতদিন ধরে ওই ভয়াবহ বিস্ফোরক বাজির কারখানা চলছিল তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শুরু হয় তদন্ত। 

আরও পড়ন, অনুব্রতর আন্দোলনে ব্রাত্য শতাব্দী, আমন্ত্রণই পাচ্ছেন না বীরভূমের সাংসদ


এরপরেই পুলিশ প্রশাসনের সন্দেহে পড়েন নৈহাটি ওই দেবক এলাকার বাসিন্দারা।  পুলিশ অভিযান চালায় ওই এলাকায়। পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে যে, সেখানে তল্লাশি চালানো হবে শুনে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বেশীরভাগ বাড়ির পুরুষরাই। কিছু বাড়িতে শুধু দেখা মিলেচছে মহিলাদের। পুলিশ ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরপর ৪ টি বাড়ি থেকে উদ্ধার করে বিপুল পরিমানে বিস্ফোরক। বিস্ফোরকগুলি এতটাই ভয়ঙ্কর যে, দ্রুত খবর জানানো হয় সিআইডি-কে। তারপর উদ্ধার হওয়া ওই বিপুল পরিমানে বিস্ফোরক ইতিমধ্য়েই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।   সি আই ডির বোম্ব স্কোয়ার্ডের দক্ষ অফিসারেরা সেগুলি নিস্ক্রিয় করার কাজ চালাচ্ছেন।