দিল্লি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপর হামলার ঘটনা গণতন্ত্রের লজ্জা। রবিবার রাতের জেএনইউ-তে বহিরাগতদের তাণ্ডবের পরে টুইট করে ক়ড়া ভাষায় ঘটনার সমালোচনা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলনেত্রী জানিয়েছেন, দলের তরফে প্রাক্তন সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীর নেতৃত্বে আরও তিন সাংসদ দিল্লি গিয়ে আক্রান্ত পড়ুয়াদের পাশে দাঁডা়বেন। 

 

 

রবিবার রাতে জেএনইউ-তে ঢুকে একদল বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের উপরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বিশ্ববিদ্য়ালয়ের ছাত্রীদের হোস্টেলে ঢুকে লাঠি, ব্যাট দিয়ে ছাত্রীদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে। ভাঙচুর করা হয় হোস্টেলের ভিতরে। হামলায় মাথা ফাটে ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষের। পড়ুয়াদের বাঁচাতে গিয়ে আহত হন এক অধ্যাপিকাও। সবমিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৮জন পড়ুয়া আহত হয়ে এইমস-এ ভর্তি রয়েছেন বলে খবর। 

আরও পড়ুন- জেএনইউ-তে আক্রান্ত বাংলার মেয়ে, কে এই ঐশী ঘোষ

আরও পড়ুন- জেএনইউ-তে বহিরাগতদের তাণ্ডব, মাথা ফাটল ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষের, দেখুন ভিডিও

জেএনইউ-তে হামলার পরেই টুইটারে মমতা লেখেন, 'জেএনইউ-এর পড়ুয়া, শিক্ষকদের উপরে যে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে, আমরা তার তীব্র বিরোধিতা করি। এই ঘৃণ্য অপরাধের নিন্দা করতে কোনও ভাষাই যথেষ্ট নয়। আমাদের গণতন্ত্রের পক্ষে এটা লজ্জার। দীনেশ ত্রিবেদীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।' তৃণমূলনেত্রী জানিয়েছেন, দীনেশ ত্রিবেদী ছাড়াও ওই প্রতিনিধি দলে থাকছেন সাংসদ সাজদা আহমেদ, মানস ভুইঞা এবং বিবেক গুপ্ত। 

সম্প্রতি এনআরসি এবং নাগরিকত্ব আইন বিরোধী সভা থেকেও বার বার ছাত্র আন্দোলনের প্রতি নিজের সমর্থন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশ্ন তুলেছেন, আঠারো বছর হলেই যখন ভোটাধিকার পাওয়া যায়, তখন কেন নাগরিকত্ব আইন বা এনআরসি-র বিরুদ্ধে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন না ছাত্রছাত্রীরা। রবিবারের ঘটনাকে হাতিয়ার করে যে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মমতা আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়াবেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।