নাতনিকে নিয়ে পথ হারিয়েছিলেন বৃদ্ধা। অনেক চেষ্টা করে যোগাযোগ করতে পারছিল না পরিবারও। শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধা এবং তাঁর নাতনির সহায় হল ক্যানিং থানার পুলিশ। 

জানা গিয়েছে, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার বাসন্তী ব্লকের কলাহাজরা ইটভাটা গ্রাম থেকে সপ্তাহখানেক আগেই নাতনি রত্নাকে নিয়ে জীবনতলা থানার হোমরাপলতা গ্রামে নিজের মেয়ে সুলতা দাসের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন বছর সত্তরের বৃদ্ধা আরতি রাউত। সেখানে কয়েকদিন থাকার পরে গোসাবায় নিজের আর এক মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার রওনা দেন আরতীদেবী। কিন্তু ক্যানিংয়ের থুমকাঠি এলাকায় এসে নাতনিকে নিয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন তিনি। 

তিন দিন ধরে তাঁদের কোনও খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবারও। সঙ্গে ছোট্ট রত্না থাকায় তার বাবা মায়ের উদ্বেগ আরও বাড়ছিল। শেষ পর্যন্ত ক্যানিং থানার পুলিশের উদ্যোগে সোমবার তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তিন দিন পরে আরতিদেবী এবং ছোট্ট রত্নাকে ফিরে পেয়ে তখন পরিবারের সদস্যদেরও চোখে জল। পুলিশের ভূমিকায় কৃতজ্ঞ তাঁরা। 

পরিবারকে ফিরে পেয়ে আরতিদেবী জানান. পথ হারিয়ে ফেলার পরে থুমকাঠি এলাকার একটি মন্দিরে নাতনিকে নিয়ে তিনি আশ্রয় নেন। সঙ্গে মোবাইল ফোন না থাকায় পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেননি। এর পরে স্থানীয় লোকজনই তাঁদের সঙ্গে কথা বলে থানায় খবর দেন। ক্যানিং থানার পুলিশ রবিবার রাতে আরতিদেবী এবং তাঁর নাতনিকে উদ্ধার করে। আরতিদেবীর সঙ্গে কথা বলে বাড়ির ঠিকানা জানার চেষ্টা করেন পুলিশকর্মীরা। এর পরে খবর দেওয়া হয় আরতিদেবীর বাড়িতে। শেষ পর্যন্ত সোমবার সকালে থানায় এসে আরতিদেবীদের নিয়ে যান তাঁর ছেলে এবং পরিবারের অন্যান্যরা। মা এবং মেয়েকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আরতিদেবীর ছেলে। আরতিদেবীর মেয়ে সুলতা বলেন, "আমার বাড়ি থেকে বেরনোর তিনদিন ধরে পরেও মা এবং ভাইঝি দিদির বাড়িতে পৌঁছয়নি। আমরা অন্যান্য আত্মীয়দের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও ওদের সন্ধান পাইনি। অবশেষে আজ থানা থেকে আমাদের খবর দেওয়া হয়। ওদের ফিরে পেয়ে আমরা ভীষণ খুশি। ক্যানিং থানার পুলিশকে অসংখ্য ধন্যবাদ।"