এবার কেশপুরে বিরোধীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। তাও আবার তৃণমূলের তারকা সাংসদ দেব-এর নিজের গ্রামে। সেই গ্রামের বিজেপির নেতাদের দোকান-বাজার বন্ধ করার ফরমান জারি করে নাকি এলাকায় লিফলেট ছড়ানো হয়েছে, এমনটাই অভিযোগ। কম্পিউটার প্লিন্ট আউট করা লিফলেট বা পোস্টারটি এখন সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল হয়েছে। আর তাকে কেন্দ্র করে  ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে ঘাটালের তণমূল সাংসদ দেব ওরফে দীপক অধিকারী কিন্তু সোশ্য়াল মিডিয়ায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই ধরণের ঘৃণার রাজনীতি পছন্দ করেন না।

পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর থানার মহিষদা গ্রামেই তৃণমূল সাংসদ দেবের পৈত্রিক বাড়ি ৷ এক সময় এই গ্রাম ছিল সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি। তবে রাজ্য-রাজনীতির গতিপ্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে, গ্রামের বামেদের বেশিরভাগই এখন রাম অর্থাৎ বিজেপির কর্মী-সমর্থক হয়েছেন। এই হঠাৎ বিজেপির উত্থানের কারনে নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের দিনও ব্যাপক  উত্তেজনা ছিল গ্রামে। মাঝখানে খানিক থিতিয়ে আসলেও গত দুদিন ধরে এই কম্পিউটার প্রিন্টআউট করা লিফলেট নিয়ে গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়়িয়েছে।

কী আছে সেই লিফলেটে? মহিষদা গ্রামের বাসিন্দা বিজেপির ১৮ জন কর্মী-সমর্থকের পরিবারের নামে ফরমান জারি করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস দলের অনুমতি ছাড়া এই ব্যাক্তিবর্গকে কোনও দোকানের কোনও পণ্য বিক্রি করতে পারবে না। চা দোকানেও চা-ও বিক্রি করা চলবে না। দলের বিনা অনুমতিতে যদি এদেরকে কেউ কিছু বিক্রি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে , বিতর্কিত লিফলেটটিতে এমনটাই জানানো হয়েছে।


এই বিষয়ে বিজেপির কেশপুরের নেতা তন্ময় ঘোষ বলেছেন, 'শাসকদল শুধু মহিষদাতে নয়, আরও অনেক জায়গাতেই এই সামাজজিক বয়কটের রাজনীতি করছে। তিনি আরও বলেন, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। তৃণমূলকেও করবে না। ২৭ বছর পর কংগ্রেস চলে গিয়েছে, বামেদেরকেও ৩৪ বছর পর পাত্তারি গোটাতে হয়েছে ৷ টিএমসি-কেও চলে যেতে হবে। এই অত্যাচারের ফল ওদের ভোগ করতে হবেই।'

তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ফরমান জারির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। সাসক দলের কেশপুর ব্লক সভাপতি উত্তমানন্দ ত্রিপাঠীর অভিযোগ, এর পিছনে বিজেপি রয়েছে। তিনি বলেন, 'নির্বাচনের আগে থেকেই বিজেপির এমন অনেক ষড়যন্ত্র করেছিল,আবার করেছে ৷ লিফলেটে লেখা হয়েছে, 'মহিষদা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস'। এটা ভুল লেখা। আমরা প্রথমে লিখি, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস, পরে মহিষদা লেখা হয়। এর থেকেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, এই লিফলেট বিজেপি নিজেই লিখে ছড়িয়েছে।

তৃণমূলের কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহাও বলেছেন, 'এটা পুরোপুরি বিজেপির পরিকল্পিত ছক, দলকে তদন্ত করে দেখে পুলিশি ব্যবস্থা নিতে বলেছি।' অন্যদিকে, মহিষদার ছেলে তৃণমূল সাংসদ দেব টুইট করে দাবি করেছেন, এইরকম কোনও নোটিশ তৃণমূলের কোনও পার্টি অফিস থেকে দেওয়া হয়নি বা কোনও তৃণমূল কর্মীও দেননি। তবে যেই দিয়েথাকুক, একজন মানুষ হিসাবে তিনি এমন ঘৃণাকে একেবারেই সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, সাংসদ হিসাবে শপথ নেওয়ার সময়, যারা তাঁকে ভোট করেছেন শুধু তাদের নয়, তিনি সকলের পাশে দাঁড়ানোর শপথ নিয়েছিলেন।