তৃণমূলের ভাবমূর্তি উদ্ধারে কড়া ওষুধ প্রয়োগ করতে শুরু করলেন ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোর। কিন্তু সেই ওষুধ তৃণমূল নেত্রী কতটা প্রয়োগ করতে দেন, সেটাই এখন দেখার। কারণ প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মানতে গেলে, আগামী পুরসভা নির্বাচনের আগেই দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং মন্ত্রীকেও কার্যত বসিয়ে রাখতে হতে পারে। 

একটি জনপ্রিয় বাংলা দৈনিকের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই এমন চার নেতা মন্ত্রীর নাম তৃণমূলনেত্রীকে জানিয়েও দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। তাঁর মতে, দলের ভাবমূর্তি খারাপ হওয়ার পিছনে অনেকটাই দায়ী ওই চার নেতা। তাঁদের মধ্যে অন্তত এমন একজন রয়েছেন যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত প্রিয় এবং আস্থাভাজন। দক্ষিণবঙ্গের ওই দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা বরাবরই গরমাগরম বক্তব্যের জন্য 'বিখ্যাত'। বিরোধীশূন্য পঞ্চায়েত গঠন থেকে পুলিশকে আক্রমণের নিদান, বিভিন্ন সময়ে একের পরে এক বিতর্কে জড়ালেও বার বারই তাঁর হয়ে প্রকাশ্যেই সওয়াল করে ওই নেতার পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মেনে এমন আস্থাভাজন নেতার সক্রিয়তা  মমতা সত্যিই  কমিয়ে দেন কি না, তা সময়ই বলবে। এর পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের আরও এক প্রভাবশালী নেতার নামও তালিকায় রয়েছে বলে খবর। 

আরও পড়ুন- তৃণমূল বিধায়কদের জন্য নতুন শর্ত, দলীয় সভায় নির্দেশ মমতার

শুধু তাই নয়, উত্তরবঙ্গের দুই নেতা- মন্ত্রীকেও দলের স্বার্থে আপাতত আড়ালে রাখারই পরামর্শ দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। প্রসঙ্গত, এবারের লোকসভা নির্বাচনে খুবই খারাপ ফল করেছে তৃণমূল। উত্তরবঙ্গের একটিও লোকসভা আসনে জিততে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। এই সমস্ত নেতাদের জন্যই ভোটের আগে জনমানসে তৃণমূল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল বলে মনে করছেন প্রশান্ত কিশোর এবং তাঁর টিম। সংগঠনের মধ্যে এই নেতাদের জন্য ফাটল ধরেছে বলেও মনে করা হচ্ছে। 

প্রশান্ত কিশোর যদি বিতর্কিত নেতাদের এভাবে সাংগঠনিক কাজ এবং সরকার থেকে দূরে সরিয়ে রাখার পরামর্শ দিতে থাকেন, তাহলে শাসক দলে সেই তালিকা আরও লম্বা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তৃণমূলনেত্রী ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে বলেছেন, যাঁরা বিজেপি-তে যেতে চান যেতে পারেন। কিন্তু কোনওভাবেই দুর্নীতি বরদাস্ত  করা হবে না। ফলে দলের ভাবমূর্তি উদ্ধারকেই যে এখন মমতাও পাখির চোখ করেছেন তা স্পষ্ট।

বিতর্কিত নেতাদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি দলীয় সংগঠন বৃদ্ধি এবং কর্মসূচি সফল করার জন্য পুলিশ, প্রশাসনের উপরে নির্ভরশীলতা কমানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর। নিজের দল নিয়ে আপাতত গোটা রাজ্যে জোর কদমে কাজ শুরু করে দিয়েছেন ভোট গুরু। আগামী বছরের পুরনির্বাচন এবং ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তৃণমূলের রণকৌশল ঠিক করতে শাসক দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে প্রশান্তের সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি।