প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসছিল ভাত। এমনই সমস্যার কথা চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন যুবক। কিন্তু চিকিৎসকরাই প্রথমে সেই রোগীর কথা বিশ্বাস করেননি। প্রত্যেকেই ভেবেছিলেন, যুবকের মানসিক সমস্যা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক নরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বুঝতে পারলেন, মিথ্যে কথা বলছেন না ওই যুবক। সত্যিই ওই যুবকের প্রস্রাবের সঙ্গে ভাত বেরিয়ে যায়। সঙ্গে মূত্রনালিতে জ্বালা করার মতো সমস্যাও রয়েছে। 

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের দাবি, গুগল সার্চ করলে গোটা বিশ্বে এই ধরনের মাত্র এগারোজন রোগীর খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। যে রোগের নাম ইউরেট্রো ডিওড্রোনাল ফিসচুলা। অর্থাৎ ওই যুবকের খাদ্যনালী এবং মূত্রনালী ফুটো হয়ে ফিসচুলা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এ দিন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা দু' ঘণ্টা ধরে ওই যুবকের শরীরে সফল অস্ত্রোপচার করেন। চিকিৎসকদের আশা, ভবিষ্যতে ওই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন ওই যুবক। 

কিন্তু কীভাবে এই বিরল রোগে আক্রান্ত হলেন তেইশ বছরের ওই যুবক? বর্ধমানের নেড়োদিঘির  বাসিন্দা ওই যুবকের মা জানান, মাত্র আট বছর বয়সে ওই যুবকের প্রস্রাবের সঙ্গে কৃমি থেকে তৈরি হওয়া বড় আকারের কেঁচো বেরিয়ে এসেছিল। এর পর থেকেই ধীরে ধীরে এই সমস্যায় ভুগতে থাকেন ওই যুবক। গত কয়েকমাসে সেই সমস্যা আরও বেড়েছিল। খাবার খেলেই তা বেরিয়ে আসছিল প্রস্রাবের সঙ্গে। প্রথমে যুবকের পরিবারের সদস্যরাও সেকথা বিশ্বাস করেননি। 

বেসরকারি কয়েকটি জায়গায় গিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করালেও দরিদ্র পরিবারের ওই যুবকের সমস্যার সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক নরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় যুবকের রোগ শনাক্ত করতে পারেন। সিটি ইউরোগ্রাফি পরীক্ষায় ধরা পড়ে, পাকস্থলীর নীচের অংশের সঙ্গে কিডনির নীচের অংশে প্রস্রাব বেরনোর রাস্তায় ফিসচুলা রয়েছে।  

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসকরা আট বছর বয়সে যুবকের প্রস্রাবের সঙ্গে কেঁচো বেরিয়ে আসার কথা জানতে পারেন। তা থেকেই চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন, পনেরো বছর বয়সে ওই কেঁচোটি ওই যুবকের খাদ্যনালী ফুটো করে মূত্রনালীতে চলে এসেছিল। সেই ফুটোই ধীরে ধীরে ফিসচুলায় পরিণত হয়। যার ফলে যুবকের পাকস্থলী থেকে ভাতের মতো খাবার প্রস্রাবের নালী দিয়ে বেরিয়ে যেত। 

তিন সপ্তাহ আগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে এসেছিলেন ওই যুবক। মঙ্গলবার নরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য, মধুসূদন চট্টোপাধ্যায়-সহ মোট দশজন চিকিৎসকের একটি দল এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। আপাতত ওই রোগীর অবস্থাও স্থিতিশীল। 

চিকিৎসক নরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, 'আমি নিজের কর্মজীবনে এমন রোগী পাইনি। এটা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ঘটনা। বর্ধমান হাসপাতাল তো বটেই, গোটা রাজ্যেই এমন অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে আমার জানা নেই।'