Rath Yatra Grant: ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে, রথযাত্রা নিয়ে বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের
এবার রথযাত্রা উপলক্ষে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা রাজ্য সরকারের। রাজ্যের প্রতিটি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, এই অনুদানের চেক ১৩ জুলাই রথযাত্রা কমিটির প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

এবার রথযাত্রা উপলক্ষে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা রাজ্য সরকারের। রাজ্যের প্রতিটি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, এই অনুদানের চেক ১৩ জুলাই রথযাত্রা কমিটির প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকবেন। রাজ্যে আসন্ন রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে সমস্ত জেলাশাসককে (ডিএম) প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর।

সরকারের পক্ষ থেকে জেলাশাসকদের ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে: “আপনার জেলার চিহ্নিত রথযাত্রা কমিটিগুলোর প্রতিটির জন্য ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই, ২০২৬ তারিখে চিহ্নিত রথযাত্রা কমিটিগুলোর অনুমোদিত প্রতিনিধিদের হাতে এই চেক তুলে দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।”
নয় দিনব্যাপী এই উৎসব শুরু হবে ১৬ জুলাই। চেক বিতরণ উপলক্ষে রথযাত্রার আয়োজকদের উদ্দেশ্যে ভার্চুয়ালি ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ইমেইলে বলা হয়েছে, “বার্ষিক রথযাত্রা উৎসব রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে পশ্চিমবঙ্গ ও তার বাইরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্ত অংশগ্রহণ করেন।” এতে জেলা প্রশাসনের প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে ‘ব্যাপক প্রস্তুতি’ নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে রথযাত্রার পথে—বিশেষ করে যেখানে জনসমাগম বেশি হয়—সেসব জায়গায় ‘সেবা শিবির’ বা সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা।
এই সহায়তা কেন্দ্রগুলো স্থাপন ও পরিচালনার জন্য রাজ্য সরকার প্রতিটি জেলাকে ১ লক্ষ টাকা দেবে। কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে নিম্নলিখিত সুবিধা পাওয়া যাবে।
- পানীয় জল ও ওআরএস (ORS) প্যাকেট
- প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা
- বয়স্ক, নারী, শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভক্তদের সহায়তা
- জেলা প্রশাসনের বিবেচনায় তীর্থযাত্রীদের জন্য উপযোগী অন্য যে কোনও পরিষেবা।
সরকার জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা বিভিন্ন বিভাগ—যেমন পুলিশ, স্বাস্থ্য, পূর্ত (PWD), পরিবহন, দমকল ও জরুরি পরিষেবা—এবং রথযাত্রা কমিটিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করেন। অতীতে সরকারের এমন কোনও উদ্যোগের কথা রথযাত্রার কোনও আয়োজকই মনে করতে পারেননি। দিঘার শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত এবং মন্দির ট্রাস্টি কমিটির সদস্য রাধারমণ দাস বলেন, “আমি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসকনের রথযাত্রা উৎসবের সঙ্গে যুক্ত আছি, কিন্তু এত বড় মাপের আয়োজন আগে কখনও দেখিনি।” তিনি আরও বলেন, “বাংলার অন্য কোনও সরকার রথযাত্রার আয়োজকদের আর্থিক সহায়তা দেয়নি। ভগবান জগন্নাথ বাংলার সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাজ্যের বহু ক্লাব ও ছোট সংগঠন রথযাত্রার আয়োজন করে থাকে। এই আর্থিক সহায়তা আরও বেশি মানুষকে রথযাত্রার আয়োজনে উৎসাহিত করবে এবং এই অর্থ উৎসবের মাধ্যমে সমাজের কাজেই ফিরে আসবে।”
রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক জানান, “জেলাশাসকদের বলা হয়েছে যে তাঁরা রথযাত্রার আয়োজক ও কমিটিগুলোর নাম সুপারিশ করতে পারেন যাতে তারা সরকারি অনুদান পেতে পারে।” সূত্র মারফত জানা গেছে, এই অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বেশ কিছু মাপকাঠি বিবেচনা করা হবে—যেমন সংশ্লিষ্ট রথযাত্রার ঐতিহাসিক গুরুত্ব, জনসমাগমের পরিমাণ এবং উৎসবের ব্যাপ্তি। বাংলায় ইসকনের রথযাত্রাগুলোই সবচেয়ে বড়। হুগলির শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রাটি বাংলার প্রাচীনতম (১৫৩২-৩৩ সালে শুরু) এবং পুরীর পর বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথযাত্রা। পুরীর মূল উৎসবের বাইরে যেসব স্থানীয় মন্দির ও কমিটি রথযাত্রার আয়োজন করে, তাদের ওড়িশা সরকার আর্থিক সহায়তা দেয়।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.