কাটমানি সংক্রমণ এবার ছড়াল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। কাটমানির দায়ে অভিযুক্ত রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনীল ভুইমালি। রায়গঞ্জের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত (কংগ্রেস) অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য অনিল ভুইমালি দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রকম উন্নয়নমূলক কাজ থেকে শুরু করে কর্মী নিয়োগ ও ডিগ্রী প্রদানের ব্যাপারে লক্ষ লক্ষ টাকার কাটমানি আদায়ে যুক্ত।উপাচার্য্য ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই কয়েকজন শিক্ষক ও আধিকারিকদের নিয়ে এই সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন বলে বিধায়ক অভিযোগ জানিয়েছেন।আগামী অধিবেশনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আর্থিক দূর্নীতির বিষয়টি বিধানসভাতেও উত্থাপন করা হবে বলে বিধায়ক জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ কাটমানি অভিযোগ এলেই এফআইআর, ৪০৯ ধারায় মামলা, বার্তা গেল প্রতিটি থানায়

তবে এই অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করতে সময় নেননি উপাচার্যের পাল্টা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ অভিযোগের প্রমান দাখিল করার জন্য ৩ দিনের সময় দিয়ে বিধায়কের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।বিধায়কের থেকে জবাব আসার পরেই তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে কাটমানির প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আন্দলন শুরু করা হয়েছে।বুধবার এইমর্মে জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জেলাশাসকের দপ্তরে স্মারকলপিও জমা দেওয়া হয়েছে।জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা রায়গঞ্জের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত অভিযোগ তুলেছেন, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই আর্থিক দূর্নীতি চলছে। স্বয়ং উপাচার্য্য অনীল ভুইমালী সরাসরি এই আর্থিক দূর্নীতির সঙ্গে সুক্ত রয়েছেন।

মোহিত সেনগুপ্ত অভিযোগ করেছেন,“রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য সরাসরি কাটমানির সাথে যুক্ত।তার আমলে বিভিন্নরকম বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে টেন্ডার পদ্ধতি না মেনে লক্ষ লক্ষ টাকা কাটমানির বিনিময়ে বরাত দেওয়া হয়েছে।উপাচার্য্য নিজে কয়েকজন শিক্ষক, কতিপয় ছাত্র নেতা ও কয়েকজন আধিকারিককে নিয়ে এই দূর্নীতি চালাচ্ছেন।এর পাশাপাশি নিয়মবর্হিভূত ভাবে টাকার বিনিময়ে ভর্তি, গবেষনার সুযোগ – এসব ব্যাপারেও এই সিন্ডিকেট দূর্নীতি চালিয়ে গিয়েছে।এর সব প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। এই কাটমানির অর্থ ফেরত দেবার জন্য আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের থেকে আমি কোনও চিঠি এখনও পাইনি। চিঠি এলেও আমি তা রিসিভ করব না।কারণ একজন বিধায়ককে এই ধরনের চিঠি পাঠানোর কোনও এক্তিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের নেই।’’

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য অনিল ভুইমালি জানিয়েছেন, “বিধায়কের সমস্ত অভিযোগ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ধরনের আর্থিক দূর্নিতির ঘটনা ঘটেনি। সব কিছুই সরকারি নিয়ম মেনে করা হয়েছে। বিধায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাহানি করেছেন। তাঁর তোলা অভিযোগগুলির প্রমান দাখিল করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ বিধায়ককে চিঠি পাঠিয়েছে।ওই চিঠিতে তাকে ৩ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।ওই সময়ের মধ্যে বিধায়ক তার জবাব না দিলে অথবা বিধায়কের জবাব সন্তোষজনক না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল জরুরি মিটিং ডেকে পরবর্তী পদক্ষেপের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়জনে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও দায়ের করা হতে পারে।’’