আরজি কর হাসপাতালে একটি ভয়াবহ লিফট দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় হাসপাতালের তিনজন লিফট ম্যান ও দুজন নিরাপত্তাকর্মী সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের ভার এখন লালবাজারের হোমিসাইড শাখার হাতে।
আরজি কর হাসপাতালে লিফট দুর্ঘটনায় গ্রেফতার হল পাঁচ জন। হাসপাতালের ৩ জন লিফট ম্যান ও ২ জন নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। এবার এই তদন্তের ভার নিল লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখা।
গ্রেফতার করা হয়েছে, হাসপাতালের লিফট ম্যান কুমার দাস। নিরাপত্তা কর্মী আশরাফ রহমান, লিফট ম্যান বিশ্বনাথ দাস, লিফট ম্যান মানস কুমার গুহ, নিরাপত্তা কর্মী শুভদীপ দাস।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার আরজিকর হাসপাতালে লিফটে আটকে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। মৃতের নাম অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বয়স ৪০ বছর। চার বছরের ছেলের চিকিৎসার জন্য আরজি করে এসেছলেন তিনি। ট্রমা কেয়ারের পাঁচ তলায় যাওয়ার জন্য ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে ২ নম্বর লিফটে ওঠেন। পাঁচ নম্বর তলায় যাওয়া বোতাম টিপে ছিল। লিফট কিছু যাওয়ার পর বেসমেন্টে আছড়ে পড়ে। দরজা বন্ধ হয়ে যায়। ভিতরে আটকে পড়েন তারা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথমে শিশু ও মহিলাকে উদ্ধার করা হয়। অরূপকে উদ্ধারের সময় হঠাৎ লিউফ উঠতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর থেমেও যায়। কিন্তু, আতচকা ওই ঘটনায় মারাত্মক আঘাত লাগে অরূপের। ময়নাতদন্তে জানা গিয়েছে, পলি ট্রমায় মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির। পাঁজরের সহ হাড় ভেঙে গিয়েছিল।
ঘটনায় টালা থানায় অভিযোগ দায়ে হয়েছে। ঘটনায় পাঁচ জনকে থানায় তলব করে পুলিশ। শেষে গ্রেফতার করা হয়েছে পাঁচজনকে।
এদিকে ঘটনার সময় লিফ্ট অপারেটর উপস্থিত ছিলেন না বলেও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। এই অভিযোগ ঘিরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিজনেরা। তাঁদের দাবি, হাসপাতালের অধিকাংশ লিফ্টেই নিয়মিত কোনও অপারেটর থাকেন না, ফলে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হয়। এদিন পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এর ইমার্জেন্সি বিভাগে এক চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা রাজ্য জুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই ঘটনার পর ফের একই হাসপাতালে এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।


