প্রায় ১৩ বছর কারাবাসের পর সারদা চিটফান্ড কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেনের জেলমুক্তির পথ প্রশস্ত হল। কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা শেষ দুটি মামলাতেও তাঁর জামিন মঞ্জুর করায় এখন তাঁর মুক্তি সময়ের অপেক্ষা।

প্রায় ১২ বছর ১১ মাস কারাবাসের পর জেলমুক্তির পথে সুদীপ্ত সেন। বহুল আলোচিত সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি মামলার মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেল-এ বন্দি। তবে সব মামলায় জামিন মেলায় তাঁর মুক্তি এখন সময়ের অপেক্ষা। বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট-এর বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ-এর ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা বাকি দুটি মামলাতেও জামিন মঞ্জুর করে। এর ফলে আইনি দিক থেকে তাঁর জেল থেকে বেরোনোর আর কোনও বাধা রইল না। আদালত অবশ্য জামিনের ক্ষেত্রে কিছু শর্তও আরোপ করেছে।

সব ঠিক থাকলে, বৃহস্পতিবারই জেল থেকে মুক্তি পেতে পারেন তিনি। সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে মোট ৩৮৯টি মামলা দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে সিবিআই ৭৬টি মামলা নিজেদের হাতে নেয়। সিবিআইয়ের সব মামলাতেই আগেই জামিন পেয়েছিলেন তিনি। বাকি বহু মামলার চার্জশিট দেয় রাজ্য পুলিশ।

শেষ পর্যন্ত বারাসাত থানার দুটি মামলাই তাঁর মুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বুধবার সেই মামলাতেও জামিন মঞ্জুর হওয়ায় আইনি জট কাটল। ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয় সুদীপ্ত সেনকে। সারদা কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি সঙ্গী দেবযানী মুখার্জি-কে নিয়ে কাশ্মীরের সোনমার্গে আত্মগোপন করেছিলেন। পরে সেখান থেকেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

তারপর থেকে দীর্ঘদিন জেলবন্দি জীবন কাটিয়েছেন তিনি। দেবযানী মুখার্জি ২০২৩ সালে সাময়িক প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কুণাল ঘোষ জানান, জামিন দেওয়া বা না দেওয়া সম্পূর্ণই আদালতের বিষয়। আদালত তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেছে, তাই এই নিয়ে আলাদা করে মন্তব্যের কিছু নেই। জ্যে আসন্ন নির্বাচনের ঠিক আগে সুদীপ্ত সেনের মুক্তির সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বহু বিতর্কিত এই মামলার প্রধান অভিযুক্তের মুক্তি নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে মুক্তির মুখ দেখছেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন।