চন্দ্রযানের ল্যান্ডার শেষ পর্যন্ত চাঁদের বুকে না নামলেও নিরাশ হওয়ার কোনও কারণ দেখছেন না বিশিষ্ট বিজ্ঞানী বিকাশ সিনহা। এ দিন দুর্গাপুরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে ভারতের চন্দ্রাভিযান নিয়ে এমনই মত প্রকাশ করলেন প্রবীন এই বিজ্ঞানী। তাঁর মতে, ইসরোর বিজ্ঞানীরা যা করেছেন, তা এক বিরাট কৃতিত্ব। 

শুক্রবার চাঁদের মাটি স্পর্শ করার কয়েক মুহূর্ত আগেই চন্দ্রযানের ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ইসরোর। অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। এ দিন দুর্গাপুরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির একটি অনুষ্ঠানে এসে এই প্রসঙ্গে নিজের মতামত দেন পদ্মভূষণ প্রাপ্ত বিজ্ঞানী বিকাশ সিনহা। তিনি বলেন, 'চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে যেখানে সূর্যের আলো পৌছয় না, সেখানে চন্দ্রযান পাঠানো ভারতীয় বিজ্ঞানীদের কাছে এক বিরাট সাফল্য।' প্রসঙ্গত বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে দক্ষিণ মেরুতে সফট ল্যান্ডিংয়ের চেষ্টা করেছিল ভারত। 

আরও পড়ুন- শেষ মুহূর্তে স্বপ্নভঙ্গের আশঙ্কা, চাঁদের কাছে গিয়েও হারিয়ে গেল বিক্রম

আরও পড়ুন- শৈশবে চটি কেনার সামর্থ্য ছিল না, চাঁদকে ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখালেন কৃষক পরিবারে জন্মানো শিভন

বিকাশবাবু বলেন, 'আমাদের রোবোট বিক্রম হয়তো চাঁদে পৌঁছতে পারবে না। কিন্তু সে চাঁদের দু' কিলোমিটার উপরে থাকলেও সেখান থেকে যন্ত্রপাতি নিয়ে কিছুটা হলেও বোঝা যাবে ওখানে জল, খনিজ, হিলিয়াম গ্যাস আছে কি না। পুরোপুরি বোঝা না গেলেও কিছুটা বোঝা সম্ভব হবে। আশা করি বিক্রমের সঙ্গে ফের যোগাযোগ স্থাপন হবে এবং চন্দ্রযান চাঁদে নামবে। আর  তা না হলেও একেবারে নিরাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। আমি ইসরোর বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানাতে চাই। টিভিতে দেখে মনে হল ইসরোর বিজ্ঞানীরা এখনও আশা ছাড়েননি। এটা একটা বিরাট কৃতিত্ব।'

শুধু বিকাশ সিনহাই নন, ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান জি মাধবনের মতো বিশেষজ্ঞদের অনেকেই দাবি করছেন, ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভার প্রজ্ঞান কাজ করতে না পারলেও ভারতের চন্দ্রাভিযান ২ ৯৫ শতাংশ সফল। কারণ চন্দ্রযানের অরবিটর ঠিক মতোই কাজ করছে। চন্দ্রযান ২ অভিযানের একাধিক লক্ষ্য ছিল। যার মধ্যে চাঁদের বুকে সফট ল্যান্ডিং ছিল একটি অংশ মাত্র। নাসা স্পেসফ্লাইটের লেখক এবং ম্যানেজিং এডিটর ক্রিস জি-ও বলেছেন, অরবিটরের উপরেই চন্দ্রাভিযানের ৯৫ শতাংশ পরীক্ষা- নিরীক্ষা নির্ভর করছে।