Shyama Prasad Mukherjee 125th Birth Anniversary উপলক্ষে জেনে নিন ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষাবিদ ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী নাম। অনেকেই তাঁকে কেবল 'ভারতীয় জনসংঘ'-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে চেনেন। কিন্তু তাঁর বহুমাত্রিক জীবনের এমন অনেক দিক রয়েছে, যা আজও সাধারণ মানুষের অজানা। তাঁর জন্মজয়ন্তীতে রইল এমন ১০টি অবিশ্বাস্য তথ্য:

১। মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য বা Vice Chancellor ছিলেন। তিনি ১৯৩৪ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে তিনি এর মর্যাদাপূর্ণ পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এই রেকর্ড কিন্তু এখনও রয়েছে।
২। বহুমুখী প্রতিভা
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শুধুমাত্র একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না। তিনি ছিলেন আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সাহিত্যপ্রেমী। ইংল্যান্ডের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করলেও নিজেকে কেবল আইন পেশায় সীমাবদ্ধ রাখেননি।
৩। স্বাধীন ভারতের প্রথম কেন্দ্রীয় শিল্পমন্ত্রী
১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর, জওহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বে গঠিত প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভায় তিনি দেশের প্রথম শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রী (Minister for Industry and Supply) হিসেবে দায়িত্ব পান। স্বাধীনতার পর দেশের শিল্পনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
৪। ফজলুল হক মন্ত্রিসভার সদস্য
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার আগে ১৯৪১-৪২ সালে অবিভক্ত বাংলা ফজলুল হকের শ্যামা-হক জোট সরকারে তিনি সফলভাবে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময় বাংলার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ।
৫। বাংলায় ভাষায় শিক্ষা
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালীন তিনি উচ্চশিক্ষার স্তরে বাংলা ভাষাকে মাধ্যমের মর্যাদা দেওয়ার জন্য ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেন। তাঁর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৩৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রথমবার সম্পূর্ণ বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন।
৬। কংগ্রেসের বিকল্প রাজনৈতিক দল গঠন
নেহরু সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ ছিল মুসলিম তোষণ নীতি। লিয়াকত-নেহরু চিক্তির প্রতিবাদে তিনি ১৯৫০ সালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর আরএসস -এর সাহায্য ১৯৫১ সালে ২১ অক্টোবর নিজের রাজনৈতিক দল জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। যা বিজেপির পূর্বসূরী।
৭। কাশ্মীরে গ্রেফতার
ভারতের অন্যান্য রাজ্যের নাগরিকদের কাশ্মীরে ঢোকার জন্য বিশেষ 'পারমিট' বা অনুমতি লাগত। শ্যামাপ্রসাদ এই নিয়মের তীব্র বিরোধী ছিলেন। ১৯৫৩ সালের মে মাসে কোনো পারমিট ছাড়াই কাশ্মীরে প্রবেশ করায় শেখ আবদুল্লাহর সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে
৮। কাশ্মীরের কারাগারে রহস্যমৃত্য
গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন কাশ্মীরে বন্দী অবস্থাতেই তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সরকারিভাবে মৃত্যুর কারণ হৃদরোগজনিত জটিলতা বলা হয়। তবে তাঁর মৃত্যু ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে, এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছিল।
৯। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের প্রভাব
শ্যামাপ্রসাদের জীবনের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর পিতা, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও বিচারক স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় (যাঁকে 'বাংলার বাঘ' বলা হতো)। পিতার সততা, নির্ভীকতা এবং শিক্ষার প্রতি অনুরাগ শ্যামাপ্রসাদের চরিত্রে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল।
১০। আজও প্রাসঙ্গিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বা 'ধারা ৩৭০' (Article 370) বাতিলের পেছনে তাঁর স্লোগান— "এক দেশে দুই বিধান, দুই প্রধান ও দুই নিশান চলবে না" ছিল মূল ভিত্তিপ্রস্তর। ২০১৯ সালে ধারা ৩৭০ বাতিলের পর থেকে ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁর ভাবধারা ও জাতীয়তাবাদী দর্শন নতুন করে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে।
