AITC & SIR: এসআইআর নিয়ে সবথেকে বেশি বিতর্ক, মামলা মকর্দ্দমা হয়েছে এই রাজ্যে। রাজ্যের তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও তৃণমূল সুপ্রিমো এসআইআর-এর চরম বিরোধিতা করেছিলেন। ফল দেখা যাচ্ছে উল্টো।
ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস থেকে ৯টি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন করেছে। কিন্তু সবথেকে বেশি বিতর্ক, মামলা মকর্দ্দমা হয়েছে এই রাজ্যে। রাজ্যের তৎকালীন শাসক দল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (MAMATA BANERJEE) এসআইআর-এর চরম বিরোধিতা করেছিলেন। এসআইআর প্রক্রিয়ারে ভোট কাটার হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনকে কাটগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা গেল উলটপুরাণ। যে ১৩টি রাজ্যে সবথেকে বেশি নাম কাটা গিয়েছিল ভোটার তালিকা থেকে সেই ১৩টি রাজ্যেই জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
১৩/২০
নির্বাচন কমিশনের হিসেব বলছে যে ২০টি রাজ্যে সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছে এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য সেই ২০টির মধ্যে ১৩টি আসনেই জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সাতটিতে জিতেছে বিজেপি।
SIR-এ নাম বাদ
এসআইআর-এর কারণে সামশেরগঞ্জে ৭৪ হাজার ৭৭৫টি নাম কাটা পড়েছিল ভোটার তালিকা থেকে। জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সামসেরগঞ্জ ছাড়াও লালগোলায় বাদ পড়েছে ৫৫ হাজার ৪২০ , ভগবানগোলায় ৪৭ হাজার ৪৯৩, রঘুনাথগঞ্জ ৪৬ হাজার ১০০, মেটিয়াবুরুজে বাদ ৩৯ হাজার ৫৭৯, সুতিতে বাদ ৩৭ হাজার ৯৬৫টি নাম। এই সবকটিতেই জয়ী হয়েছে তৃণমূলের প্রার্থীরা। অন্যদিকে সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছে ফারাক্কা বিধানসভা। এই কেন্দ্রের ৩৮ হাজার ২২২ নাম বাদ পড়েছে। এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে কংগ্রেস প্রার্থী।
তবে শুধু কংগ্রেস বা তৃণমূল নয়, যেখানে প্রচুর নাম বাদ দিয়েছে এসআইআর-এর জন্য তেমন কয়েকটি আসন পেয়েছে বিজেপিও। যারমধ্যে রয়েছে মানিকচক। বাদ গিয়েছে ২৩ হাজার নাম। কেতুগ্রামে ২৬ হাজার ৭৮০ নাম বাদ গিয়েছে। বিজেপি জিতেছে ২৭ হাজারের বেশি ভোটে।
নির্বাচন কমিশন গতবছর জুন মাসে চালু করেছিল এসআইআর। উদ্দেশ্য ছিল ভোটার তালিকা সংশোধন করা- মৃত ভোটার এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। সেখানেই দেখা যায় একাধিক বিধানসভায় ভোটার তালিকায় গরমিল। নাম বাদ পড়ে হাজার হাজার। সর্বোচ্চ নাম বাদ পড়েছে এমন কুড়িটি বিধানসভার মধ্যে তৃণমূল জিতেছে তেরোটিতে। বিজেপি জিতেছে ৬টিতে। কংগ্রেস জিতেছে একটিতে।
