বুদ্ধদেব পাত্র, পুরুলিয়া: গ্রিনজোন নয়, পরিযায়ী শ্রমিকরা ফেরার পর এবার করোনা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে পুরুলিয়াতেও। পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লকের তিনটি গ্রামে সংক্রমিত হলেন আরও ছ'জন। আক্রান্তেরা যে গ্রামের বাসিন্দা, রবিবার সকালে সেই গ্রামগুলি পরিদর্শনে যান বিডিও ও পুরুলিয়া মফঃস্বল থানার আইসি। ওই তিনটি গ্রামকে কনটেইনমেন্ট জোন বা সংক্রমিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য বিধিকে বুড়ো আঙুল, স্টেশনে নেমে পালিয়ে গেলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

জানা গিয়েছে, করোনা আক্রান্তদের মধ্যে চারজনের বাড়ি পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লকের বাঘড়া গ্রামে। বাকি দু'জন শিহলি ও দক্ষিণ বহাল গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা সকলেই পরিযায়ী শ্রমিক, কাজ করতেন মহারাষ্ট্রে। লকডাউনের মাঝে ফেরার পর ওই শ্রমিকদের স্থানীয় একটি স্কুলের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। লালারস বা সোয়াব পরীক্ষায় ছ'জনেরই করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।  পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লকের বিডিও বিজয় গিরি জানিয়েছেন, 'আমরা তিনটি গ্রামকে কনটেইনমেন্ট জোন ও বাফার জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাঁশ দিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কীভাবে সরবরাহ করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'

আরও পড়ুন:সস্ত্রীক করোনা আক্রান্ত নিউ মার্কেট থানার এসআই, সংস্পর্শে আসা সবাই কোয়ারেন্টাইনে

উল্লেখ্য, করোনা আবহে দীর্ঘ দুই মাস গ্রিনজোন ছিল পুরুলিয়া। জেলায় একজনও করোনা আক্রান্তের হদিশ পাওয়া যায়নি। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই রেকর্ডও আর অক্ষত থাকল না। গত বুধবার বলরামপুর ও রঘুনাথপুরে দু'জনের শরীরের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। তাঁদের মধ্য়ে একজন আবার মহারাষ্ট্র ফেরত পরিযায়ী শ্রমিক। আর একজন হৃদরোগের চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে।