উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের ঘটনা প্রেমের অভিনয় করে যুবতীকে বিয়ে বিয়ের প্রথম রাতেই গয়না, নগদ, বাইক নিয়ে পলাতক জামাই রায়গঞ্জ  থানায় অভিযোগ দায়ের

প্রথমে ফোনালাপ, সেখান থেকে প্রেম। এর পর পরিবারকে না জানিয়েই বিয়ে। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি এসে নতুন বৌয়ের সোনার গয়না, নগদ টাকা ও শ্বশুরমশাইয়ের নতুন মোটরবাইক নিয়ে বেপাত্তা হয়ে গেল জামাই। এখন প্রতারক জামাই আর খোওয়া যাওয়া গয়না আর বাইকের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে নববধূ ও তাঁর পরিবারের লোকজন। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানার বাজিতপুর গ্রামে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

প্রতারিত নববধূ রায়গঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইটাহার থানার চূড়ামুনের বাসিন্দা আখতারের সঙ্গে ফোনে আলাপ হয় রায়গঞ্জের বাজিতপুরের বাসিন্দা ওই তরুণীর। দুই পরিবারের অজান্তেই দীর্ঘ প্রায় আট মাস ধরে ফোনে যোগাযোগ, দেখা করার মাধ্যমে আখতারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ওই যুবতীর। চলতি মাসের ১১ তারিখে রায়গঞ্জে এসে ওই যুবতীর সাথে দেখা করে আখতার। ঝারিনাকে বিয়ে করার নাম করে স্থানীয় আদালতে একটি হলফনামায় সইও করে দু'জনে। সেদিনই আখতার নববিবাহিত স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে চূড়ামনে যায়। কিন্তু দূর থেকে একটি বাড়িকে উদ্দেশ্য করে নিজের বাড়ি বলে দেখিয়ে সেখান থেকে ফিরে আসে সে। 

এর পর আখতার ওই যুবতীকে নিয়ে সটান চলে আসে ঝারিনার বাজিতপুরের বাড়িতে। যুবতীর বাবা ও মা না জানিয়ে বিয়ে করার জন্য ফেলেছে দেখে রাগারাগি করলেও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সবকিছু মেনে নেন। মেয়ে বিয়ে করেছে এই আনন্দে পাড়া প্রতিবেশী ডেকে পোলাও মাংস রেঁধে খাওয়ান ওই যুবতীর মা। রাতে মেয়ে জামাই ঘরে রাত্রিযাপন করে৷ ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘুম ভেঙে নববধূ দেখেন তাঁর স্বামী ঘরে নেই। একই সঙ্গে উধাও হয়ে যায় যুবতীর সোনার গয়না এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা। শুধু সোনার গয়না আর নগদ টাকাই নয়, শ্বশুরের নতুন মোটরবাইকটিও নিয়ে চম্পট দেয় জামাই আখতার। এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বাজিতপুর গ্রামে।