দ্বৈপায়ন লালা, মালদহ:  মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করে শেষপর্যন্ত খুন! স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের নাবালক ছেলের দেহ মিলল বাড়ির কাছে ফাঁকা জমিতে। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদহের মোথাবাড়ি এলাকায়। পুলিশের ভুমিকায় ক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা। দু'জনকে অবশ্য গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বেলুড় মঠে শুরু দূর্গা পূজোর প্রস্তুতি, করোনা আবহেই বুক বাঁধছে কর্তৃপক্ষ

মৃতের নাম ওমর ফারুক। বাড়ি, মোথাবাড়ি বাঙ্গিটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের আমলিতলা গ্রামে। বছর দশেকের ওই বালকের বাবা হাফিজুল ইসলাম স্থানীয় পঞ্চায়েতে সদস্য় এবং এলাকা সক্রিয় তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত। পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার পাশের গ্রাম চাঁদপুরে সপরিবারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন হাফিজুল। রাতে বাড়ি ফিরে এসেছিলেন সকলেই। এরপর বাড়ির সামনেই রাস্তায় যখন কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে গল্প করছিল, তখন পঞ্চায়েত সদস্যের ছেলে ওমর-কে কয়েক দুষ্কৃতী অপহরণ করে বলে অভিযোগ। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও তার আর সন্ধান পাওয়া যায়নি। শেষপর্যন্ত মোথাবাড়়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের লোকেরা।

মৃতের পরিবারের দাবি, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর একটি উড়ো ফোন পান হাফিজুল। ফোন হুমকি দেওয়া হয়, পঞ্চাশ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ না দিলে ওমরকে খুন করা হয়। বাস্তবে হলও তাই। বুধবার সকালে বাড়ি থেকে তিন কিমি দূরে প্রতাপপুর এলাকায় একটি ফাঁকা জমিতে ওমর ফারুকের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দার। ঘটনাটি জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য পড়ে এলাকায়।  পুলিশ কেন অপহরণকারীদের গ্রেফতার করতে পারল না? অপহৃত বালককেই বা কেন অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা গেল না? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন: সাহস দিলেন সারা বাংলাকে, ৭২-র নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ বিয়ে করলেন হাঁটুর বয়সী মহিলাকে

এদিকে এই ঘটনায় রাশিদুল শেখ ও রমজান শেখ নামে দু'জনকে গ্রেফতার করেছে মোথাবাড়ি থানার পুলিশ। তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, ধৃতেরা মৃতের দূর সম্পর্কে আত্মীয়। জেরায় অপহরণ করে খুনের কথা স্বীকারও করেছে তারা। কিন্তু কেন ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়া হল? কেনই বা খুন করা হল? তা বুঝিয়ে উঠতে পারছেন না হাফিজুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের লোকেরা।