আর যাই থাক না কেন, ওষুধের সঙ্কট কিন্তু  প্রথমদিকে একেবারেই ছিল না। কিন্তু লকডাউনের দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আশঙ্কার ছায়া নেমে আসছে, এবার বোধহয় আর ওষুধ পাওয়া যাবে না দোকানে। কারণ, স্টক নিঃশেষিত হয়ে আসছে। আর সেইসঙ্গে মানুষ তার অভিজ্ঞতায় দেখে নিচ্ছে, সুগার, প্রেসার থেকে শুরু করে সাধারণ অম্বলের ওষুধ পর্যন্ত জোগাড় করতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে।

মনে করা হচ্ছে, এই সংকট কিন্তু কৃত্রিম। বাজারে ওষুধের কিন্তু কোনও আকাল ছিল না এই সেদিন পর্যন্ত। কিন্তু লকডাউন যত এগোচ্ছে, ততই ওষুধের দোকানে দীর্ঘ লাইন পড়ছে। এক সময়ে সিনেমা হলে যেমন পড়ত আর কী। দেখা যাচ্ছে, পরে পাওয়া যাবে না স্রেফ এই আতঙ্ক থেকেই লোকে এখন দু-তিন মাসের ওষুধ আগাম কিনে রাখছে। আর তাতে করেই শুরু হয়েছে সংকট।

লেকটাউন, কালিন্দী থেকে শুরু করে পাটুলি, বলতে গেলে টালা থেকে টালিগঞ্জ, সর্বত্র এই ক-দিনে লাইন পড়েছে ওষুধের দোকানে। এই পরিস্থিতিতে  ওষুধের ব্য়বসায়ীরা জানাচ্ছেন, ওষুধের মজুত যথেষ্ট। কিন্তু ডিসট্রিবিউটরের ঘর থেকে আনবে  কে। সেখানে কর্মচারীরা কেউ আসতে পারছেন না লকডাউনের জন্য়। অন্য়দিকে কাউকে পাঠানোও যাচ্ছে না বাস-মেট্রো না-চলায়। দোকানে কোনও ওষুধ ঢুকছে না। অথচ যা রয়েছে তা দ্রুত নিঃশেষিত হয়ে যাচ্ছে। তাই দেখা দিয়েছে সংকট।

এই পরিস্থিতিতে ওষুধের দোকানদার থেকে শুরু করে অনেকেই হাতজোড় করে বলছেন, দোহাই, একসঙ্গে দু-তিনমাসের ওষুধ কিনবেন না। তাহলে অচিরেই সঙ্কট দেখা দেবে। যেমন ইতিমধ্য়েই সুগার আর প্রেশারের ওষুধ পেতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে অনেকের। এমনকি,  অম্বলের জন্য় সাধারণ রানিটিডিন গ্রুপের ওষুধ পর্যন্ত সহজে পাওয়া যাচ্ছে না।