চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন হুগলি শ্রীরামপুর পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওই কাউন্সিলর। গত বছর ১০ ফেব্রুয়ারি শ্রীরমপুর স্টেশনে ঘটেছিল সেই মর্মান্তিক ঘটনা। তারপর কেটে গিয়েছে এক বছর।

রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে খোদ তৃণমূল কাউন্সিলরকে(Trinamool Councilor) প্রেমের ফাঁদে ফেলেছিলেন তাঁরই আপ্ত সহায়ক। এমনকী প্রেমিকের আসল মতলব সামনে আসার পরেই বিস্তর ঝামেলাও হয় দু-পক্ষের মধ্যে। অভিযোগ সেই সময়ই শ্রীরামপুর(Serampore Municipality) পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলররমা নাথকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছিলেন তাঁরই আপ্ত সহায়কবিজয় সাউ। যার পরিণতিতে ২০২০ সালে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন হুগলি শ্রীরামপুর পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওই কাউন্সিলর।গত বছর ১০ ফেব্রুয়ারি শ্রীরমপুর স্টেশনে(Srirampur station) ঘটেছিল সেই মর্মান্তিক ঘটনা। তারপর কেটে গিয়েছে এক বছর। এদিকে এই ঘটনার পরেই বিজয় সাউয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানরমার মা। তারপরেই গা ঢাকা দিয়েছিল সে। অবশেষে দেড় বছর পর উত্তরপ্রদেশ(Uttarpradesh) থেকে অভিযুক্ত বিজয়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ, রবিবার তাঁকে কলকাতায় আনা হয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সূত্রের খবর. কাউন্সিলর রমার সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল আপ্ত সহায়ক বিজয়ের। সেটারই পুরোমাত্রায় সুযোগ নেয় বিজয়। কাউন্সিলরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে এলাকায় টাকা তুলত বিজয়। টাকার বিনিময়ে এলাকার বাসিন্দাদের নানান অনৈতিক সুবিধা-ও পাইয়ে দিত সে, এমনটাও অভিযোগ ওঠে। এমনকী সে নিজেও অনেক অবৈধ সুযোগ নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যা জানতে পেরে অপমানিতবোধ করেন রমা। এই বিষয় সামনে আসতেই বিজয় রমাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়।কাউন্সিলরের পরিবার সূত্রে খবর, আপ্ত সহায়ক বিজয় শাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনা যে দিয়েছিল সেটা রমা নিজেই বলে ছিল। এইবিজয় আবার ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সদস্যও ছিলেন। এদিকে অবিবাহিত রমাদেবী নিজের বৃদ্ধা মাকে নিয়ে শ্রীরামপুরের মানিকতলা এলাকায় থাকতেন।

আরও পড়ুন- কপ্টার দুর্ঘটনার শোকস্তব্ধ ভারত, শহিদ ব্রিগেডিয়ারের কন্যার কবিতাতেই কাঁদছে দেশ

এদিকে শ্রীরামপুরে পরপর তিনবার তৃণমূলের টিকিটে ভোটে জিতে কাউন্সিলর হন রমা। এলাকায় বেশ জনপ্রিয় মুখ ছিলেন তিনি। প্রভাব ছিল যথেষ্ট। কিন্তু বিজয়ের এই কুকীর্তির কথা জানার পর তাঁর সঙ্গে বিজয়ের অশান্তি শুরু হয়। এমনকী তাতে যে তার এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে তাও বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ফল হয় উল্টো। এদিকে গত বছর, ১০ ফেব্রুয়ারি শ্রীরামপুর স্টেশনে গিয়ে বসেছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর রমা নাথ। নিত্যযাত্রীরা সকলেই ভেবেছিলেন, হয়ত তিনিও ট্রেনেই উঠবেন। কিন্তু, ট্রেন আসতেই চলন্ত গাড়ির সামনে আচমকা ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন রমাদেবী।প্রায় দশ বছরের কাউন্সিলর রমাদেবী কেন আত্মঘাতী হলেন, সেই কারণ নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। যদি ধীর ধীরে সমস্ত বিষয়ই সামনে আসতে থাকে। তখনই পুলিশের দ্বারস্থ হন রমাদেবীর মা।