মালদার কালিয়াচক কাণ্ডে সিবিআই বা এনআইএ তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। কেন এই ঘটনা ঘটল, কারও উস্কানি ছিল কি না, কেন প্রশাসন আগেই পদক্ষেপ নিল না, এই সবই তদন্তে করে দেখা হবে। মালদার কালিয়াচকে ৭ বিচারবিভাগীয় অফিসারকে ঘেরাও এবং জাতীয় সড়ক অবরোধ করার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

মালদার কালিয়াচক কাণ্ডে সিবিআই বা এনআইএ তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। কেন এই ঘটনা ঘটল, কারও উস্কানি ছিল কি না, কেন প্রশাসন আগেই পদক্ষেপ নিল না, এই সবই তদন্তে করে দেখা হবে। মালদার কালিয়াচকে ৭ বিচারবিভাগীয় অফিসারকে ঘেরাও এবং জাতীয় সড়ক অবরোধ করার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এনিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি বিচার পরে প্রয়োজনীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্ট ভারতের নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যেন এই ঘটনার তদন্ত সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI) অথবা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র মাধ্যমে করানো হয়। আদালত আরও জানিয়েছে যে, তারা এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় নজরদারি চালাবে। পাশাপাশি মালদার জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, তাঁদের ব্যাখ্যা দিতে হবে যে, কেন বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও তাঁরা কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

বুধবার মালদার কালিয়াচকের মোথাবাড়ি কার্যত রণক্ষেত্রের আকার নেয়। SIR-এ নাম বাদের প্রতিবাদে চলে বেনজির তাণ্ডব। আগুন লাগানো হয় গাড়িতে। অবাধে চলে ভাঙচুর। সকাল থেকে রাত অবধি আটকে রাখা হয় ৩ মহিলা সহ ৭ জন বিচারককে। ঘন্টার পর ঘণ্টা চলে ঘেরাও। আটকে ছিলেন হাইকোর্ট নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা। মধ্যরাতে তাঁদের উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই সময়েও ধাওয়া করা হয় তাঁদের গাড়িকে। রাস্তায় বাঁশ ফেলে আটকানোর চেষ্টা করা হয় জুডিশিয়াল অফিসারদের গাড়ি। শেষ অবধি কোনওক্রমে এলাকা ছাড়েন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার মালদার ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বিষয়টি শোনে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। প্রথমেই আইনজীবী কপিল সিব্বলকে প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, "বিষয়টি সম্পর্কে আপনি জানেন?" আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, "এটি অরাজনৈতিক।" তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, "রাজনীতি যেন প্রবেশ না করে। বিকেল থেকে জমায়েত শুরু হয়েছে। বিক্ষোভ হচ্ছে। রাতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উদ্ধার করা হয়েছে।" কমিশনের উদ্দেশে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, "কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করে টপ মোস্ট অফিসারকে দায়িত্ব দিন। এই ঘটনায় সবার প্রতিবাদ করা উচিত।" কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, "খুবই খারাপ ঘটনা। আমরা অবাক!" বিচারপতি বাগচী বলেন, "কমিশনকে প্রয়োজনীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।"

প্রধান বিচারপতি বলেন, "রাত ১১টা পর্যন্ত জেলাশাসক সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। রাতে কঠোর ভাবে মৌখিক নির্দেশ দিতে হয়েছে। ৫ বছরের একটি শিশুকে খাবার ও জল দেওয়া হয়নি।" তুষার মেহতা বলেন "নিরাপত্তার জন্য রাজ্যের উপর নির্ভর করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।" তখন বিচারপতি বাগচী বলেন, "আমরা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের উপর ছেড়ে দিচ্ছি।" প্রধান বিচারপতি বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। গত কাল রাতে আমাদের মধ্যে কয়েক জনকে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে জানানো হয় যে, মালদা জেলার কালিয়াচক এলাকায় তিন জন মহিলা-সহ মোট সাত জন বিচারককে দুষ্কৃতীরা ঘেরাও করে রেখেছিল। এই ঘেরাও বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে শুরু হয়। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তাঁর চিঠিতে জানান, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার কেউই ঘটনাস্থলে পৌঁছোননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিজে থেকেই রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করতে হয়েছিল। পরে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ডিজিপি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বাসভবনে পৌঁছন। সিনিয়র বিচারপতিরাও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত রাত ১২টার পর বিচারকদের মুক্ত করা হয়। কিন্তু মধ্যরাতে মুক্ত হওয়ার পর যখন তাঁরা নিজেদের জায়গায় ফিরছিলেন, তখন তাঁদের গাড়ির উপর পাথর ছোড়া হয় এবং লাঠি, বাঁশ দিয়ে আক্রমণ করা হয়। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেছেন, এই ঘটনা বিচারকদের উপর ভয়ের প্রভাব ফেলবে। চিঠির শেষের আগের অনুচ্ছেদ নিয়ে আমরা অত্যন্ত হতাশ। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি এবং হোয়াট্স‌অ্যাপ বার্তা পাঠানোর জন্য তাঁর নম্বরও পাওয়া যায়নি। এর আগে নির্দেশ দিয়ে আমরা বলেছিলাম, এসআইআর প্রক্রিয়ায় আপত্তি নিষ্পত্তির দায়িত্ব বিচারকদের দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই ঘটনা শুধু বিচারকদের ভয় দেখানোর একটা স্পষ্ট চেষ্টা নয়, বরং এটি এই আদালতকেও চ্যালেঞ্জ করছে। এটি কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। বরং মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য ছিল বিচারকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং বাকি থাকা মামলাগুলিতে আপত্তি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া। আমরা কাউকেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বা বিচারকদের মনে ভয় তৈরি করার মাধ্যমে কাজে বাধা দিতে দেব না। এই কাজটি ফৌজদারি অবমাননা হিসেবেও গণ্য হয়।”