রাজ্যে তৃণমূল বিজেপি কথার লড়াই এবং সংঘর্ষ অব্যাহত। এবারে পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে অসমের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা এবং দিলীপ ঘোষের কনভয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে.। আবার শুভেন্দু অধিকারীর হঁশিয়ারীর জবাবে তৃণমূল মন্ত্রীকে ভুবনেশ্বর পাঠানোর হুমকি দিলেন দিলীপ। শুধু তাই নয় খেজুরিতে আক্রান্ত হওয়ার পরে অভিযুক্তদের রাস্তায় বের করে পেটানোর শাসানি দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। ক্ষমতা থাকলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানোরও চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন তিনি।

সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়ারির একটি সভায় বিজেপি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মাওবাদী নেতা কিষেণজদির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "আগে একটু বাড়তে দেওয়ার সুযোগ দিয়েছি।  এখানে যে মস্তানগুলো ঘুরছে, তাদের থেকে অনেক বড় মস্তান ছিল কিষেণজি। কিষেণজি আছে জঙ্গলমহলে? আর বেশিদিন সময় লাগবে না। ২৫ মে শেষ দিন, তার পরে কী করতে হয় শুভেন্দু অধিকারী জানে। আমি তারিখ বলে নাম লিখে নিয়ে গেলাম. কোন রোগের কী ওষুধ, ভাল করে জানি। ফিনাইল দিয়ে কীভাবে আগাছা পরিষ্কার করতে হয়, জানা আছে।"

শুভেন্দু অধিকারী এই হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরেই মঙ্গলবার রাতে পূর্ব মেদিনীপুরে সভা করতে গিয়ে আক্রান্ত হন অসমের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা এবং দিলীপ ঘোষ। তাঁদের গাড়ি ঘিরে ধরে তৃণমূল বাহিনী ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। বিজেপি সমর্থকদের বেশ কিছু বাইকেও ভাঙচুর করা হয়। টুইট করে গোটা ঘটনার কথা জানান হেমন্ত। এর পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এলাকায় গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। 

 

 

এই হামলার পরেই শুভেন্দুর হঁশিয়ারির জবাবে পাল্টা শাসানি দেন দিলীপ। তিনি বলেন, "এসব ডায়লগ অনেক শুনেছি, গুন্ডা আর পুলিশ দিয়ে যদি বিজেপি-কে আটকাবেন মনে করেন, বুকের উপরে পা দিয়ে রাজনীতি করব। তমলুকে দাঁড়িয়ে এ কথা এখানে বলে যাচ্ছি. আর তেইশে মে-র পরে ওঁরা কে কোথায় যাবেন ঠিক করে নিন। ওড়িশায় জায়গা দরকার হলে করে দেব, না হলে জগন্নাথ দর্শন করিয়ে বিহার-ঝাড়খণ্ডে পাঠিয়ে দেব। এই দাদাগিরি, জমিদারি আমি ভাঙব, ক্যামেরার সামনে বলে যাচ্ছি।" প্রসঙ্গত সারদা মামলায় সাম্প্রতিককালে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের ভুবনেশ্বরেই নিয়ে গিয়েছিল সিবিআই। শুভেন্দুকেও সম্ভবত সেই খোঁচাই দিলেন দিলীপ।

 এর পরেই খেজুরিতে যারা তাঁদের কনভয়ে হামলা চালিয়েছে তাদের হঁশিয়ার করে দিলীপ। বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি বলেন, "যারা আজকে খেজুরিতে হামলা চালাল, তাদের বলছি তেইশে মে-র পরে আমি আসব। রাস্তায় বের করে সবকটাকে পেটাব। যদি কারও ক্ষমতা থাকে, গিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করুন গিয়ে।" দিলীপের কথাতেই স্পষ্ট, নির্বাচন কমিশনকেও তিনি বিশেষ আমল দিচ্ছেন না।

কয়েকদিন আগে দিলীপের মতো অনেকটা একই সুরে তৃণমূল কর্মীদের কুকুরের মতো মারার হুমকি দিয়েছিলেন ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ। তাঁকেও সমর্থন করেছিলেন দিলীপ। ভারতীর ওই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই দিল্লির সদর দফতরে রিপোর্ট পাঠিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।