সংক্ষিপ্ত

গত ২৪ ঘণ্টায় ওই এলাকার বেশ কয়েকটি পাকা বাড়ি সহ প্রায় ১৫০ মিটার স্থলভূমি গঙ্গায় তলিয়ে যায় বলে এলাকাবাসীদের দাবি। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের কর্তারা সেখানে এসে হাজির হন। যদিও সরকারি কর্মকর্তাদের হাতের সামনে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উপর ক্ষোভ উগরে দেয় বলে জানা যাচ্ছে।

বর্ষা হোক বা গ্রীষ্ণ, শীত হোক বা অন্যান্য সময়, গঙ্গার ভাঙন(Ganges erosion) বিপর্যয়ই যেন বর্তমানে সব থেকে বেশি মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মুর্শিদাবাদারে(Murshidabad) একটা বড় অংশের বাসিন্দাদের। প্রচন্ড শীতে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমার(Jangipur subdivision of Murshidabad) অন্তর্গত নিমতিতা সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের কর্তারা(Administration officials) সেখানে এসে হাজির হন। যদিও তাদেরকে হাতের সামনে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উপর ক্ষোভ উগরে দেয়। নিমতিতা ও দুর্গাপুরে ভাঙনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে খবর। গত ২৪ ঘণ্টায় ওই এলাকার বেশ কয়েকটি পাকা বাড়ি সহ প্রায় ১৫০ মিটার স্থলভূমি গঙ্গায় তলিয়ে যায় বলে এলাকাবাসীদের দাবি।

একদিকে শীতের কামড় অন্য দিকে গঙ্গার করাল গ্রাসে জেরবার বাসিন্দারা। বাড়িঘর হারিয়ে এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবার কার্যত রাস্তায় বসেছে। এদিকে গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ শুরু না হওয়ায় এদিন পথ অবরোধ করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে গঙ্গা ভাঙন রোধের ব্যাবস্থা করুক সরকার। নইলে একদিন গোটা নিমতিতা ও সামশেরগঞ্জ মানচিত্র থেকে মুছে যাবে বলেও হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা। বিগত বছর চারেক ধরে মূলত বর্ষার শুরুতে ভাঙন দেখা দেয়। কিন্তু, এবার শীতের মরশুমেও ভাঙনের ভয়ঙ্কর রূপ দেখে আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা। ইতিমধ্যেই গঙ্গাপারের অন্যান্য বাসিন্দারা তাদের বাড়ি থেকে জিনিসপত্র সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে দিতে শুরু করেছেন। খোঁজ চলছে বিকল্প থাকার জায়গার।

আরও পড়ুন-শুক্রবারই কলকাতায় ভার্চুয়ালি পা মোদীর, উদ্বোধন হতে চলেছে নতুন ক্যান্সার হাসপাতালের

এবিষয়ে এলাকার বিডিও কৃষ্ণচন্দ্র মুন্ডা জানান, এলাকায় একটি টিম রয়েছে, তাঁরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে। সম্প্রতি ভাঙন অধ্যুষিত নিমতিতা গ্রাম পঞ্চায়েতের দুর্গাপুরে আচমকা ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনে প্রায় ৭টি পাকা বাড়ি সম্পূর্ণ গঙ্গায় তলিয়ে যায়। আরও বেশ কয়েকটি পাকা বাড়ি কিনারে ঝুলছে। ফলে, আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। কনকনে শীতে ভাঙনের আতঙ্ক এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন উদ্বেগের সঞ্চার করেছে। সূত্রে খবর, আর মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বে রয়েছে এলাকায় জল সরবরাহের জন্য একটি জলের ট্যাঙ্ক। জলের ট্যাঙ্কটিও অচিরেই তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা মিনারুল শেখ, আফসারা বেওয়ারা।রীতিমতো আশঙ্কার সুরে তাদের বলতে শোনা যায়, এত প্রচণ্ড ঠান্ডায় বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে কেথায় যাব? সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, শীঘ্র গঙ্গা ভাঙন রোধের ব্যাবস্থা করুন। না হলে পরিস্থিতি গুরুতর হবে"।