পুজোর আর মাত্র কটা দিন বাকি। অন্যদিকে প্রতিদিনই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সেই সংখ্যা পুজোয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সকলেই। আর তাই নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বসিরহাট থানায় পুলিশ সুপার কংকর প্রসাদ বাড়ূই। দুর্গাপুজোর এই কটাদিনে প্রশাসনের কাছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমানোর জন্য শপথ নিল জেলা প্রশাসন। সেই সঙ্গেই তাতে সামিল হলেন পুজো উদ্যোক্তারাও। ওই দিন বসিরহাট মহকুমার মোট ১০৯৬ রেজিস্ট্রেশন ক্লাব অংশগ্রহণ করলেন সেখানে। বসিরহাট থানায় পুলিশ সুপার কংকর প্রসাদ বাড়ূই সহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চন্দন ঘোষ, মহকুমার শাসক বিবেক ভস্মে বসিরহাট পৌর প্রশাসক তপন সরকার বিধায়ক দিপেন্দু বিশ্বাস সহ পুজো উদ্যোক্তারাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। ওই দিন বসিরহাট মহকুমার পুজোর গাইড ম্যাপ উদ্বোধন হওয়ার পাশাপাশি পুজোর দিনে করোনা সংক্রমণ রুখতে শপথ নেন সকলেই।

মূলত বাদুড়িয়া, বসিরহাট, টাকি এই শহরগুলিতে কি কি করোনা বিধি মেনে চলতে হবে তা জানানো হয়। সেই সঙ্গেই বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি কি এবং এই সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় পুজোর কটা দিন তার বার্তাই দেওয়া হয়। ওই দিন সেখানে এগারোটি নির্দেশিকা জারি করেন পুলিশ প্রশাসন। পাশাপাশি পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়, অনেক ক্লাবই তিন দিক প্যান্ডেল খোলা রাখছে না। সেক্ষেত্রে আমরা যেকোনও সময় প্রশাসনের তরফ থেকে বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শন করব। সে বিষয়ে কোনও ত্রুটি আমরা থাকতে দেব না। তারা এও আপনারা সুস্থ থাকলেই, আমরা সুস্থ থাকব। প্রশাসনের তরফ থেকে সকলের উদ্দেশ বলা হয় পঞ্চমী থেকে একাদশী পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকবে আর মানুষও বাঁচবে।

টোটো, মোটর চালিত ভ্যান, মালবাহী গাড়ি, লরি বা বাস কোনটাই দুপুর দুটো থেকে চারটি পর্যন্ত চলবে না। পুজো উদ্যোক্তাদের জানানো হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্যানিটাইজার মাক্স -এর ব্যবস্থা রাখার কথা। এছাড়াও সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে প্রতিমা দর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বহু প্রাচীন ঐতিহ্য সংস্কৃতি ইছামতি নদীতে বিসর্জন এবার চারদিন ধরে হবে জানানো হয় ওই দিন। এছাড়াও প্রতিমার নৌকায় ৫ থেকে ১০ জনের বেশি ওঠা যাবে না। এছাড়াও অনলাইন প্রতিমা দর্শনের ব্যবস্থাও হচ্ছে বলে জানানো হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পুজোর সময় করোনা সংক্রমণ রুখতেই এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনের ।