এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস তার অ্যাকাউন্ট থেকে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন নামে একটি সংস্থাকে ১৬০ কোটি টাকা পাঠিয়েছে। এই টাকার বড় অংশ দিয়ে একটি এমব্রেয়ার বিমান ও একটি অগাস্টা হেলিকপ্টার কেনা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে নেমে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। ইডি-র দাবি, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তৃণমূল তাদের দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং তার সহযোগী সংস্থাকে ১৬০ কোটি টাকা পাঠিয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকার একটি বড় অংশ দিয়ে একটি এমব্রেয়ার লেগাসি ৬০০ বিমান এবং একটি অগাস্টা হেলিকপ্টার কেনা হয়েছে।

EDর স্ক্যানারে তৃণমূলের ব্য়াঙ্ক অ্যাকাউন্ট
মঙ্গলবার সকাল থেকে ইডি-র একটি দল কলকাতার কেয়ারওয়েল গ্রুপের পাঁচটি ঠিকানায় তল্লাশি চালাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বেআইনিভাবে টাকা সংগ্রহ এবং সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগের তদন্তেই এই তল্লাশি। তদন্তকারী আধিকারিকরা সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, "২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন এবং তার সহযোগী সংস্থাকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা পাঠানো হয়।"
তদন্তে আরও জানা গেছে, কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন আবার নতুন তৈরি হওয়া তাদেরই একটি সহযোগী সংস্থাকে ৮২.৯৬ কোটি টাকা পাঠায় (২০২৩-২০২৬ সালের মধ্যে)। ইডি জানিয়েছে, "তল্লাশিতে জানা গেছে, এই টাকার একটি বড় অংশ কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের একটি সহযোগী সংস্থাকে পাঠানো হয়েছিল একটি এমব্রেয়ার লেগাসি ৬০০ বিমান এবং একটি অগাস্টা ১০৯ এসপি চপার কেনার জন্য।"
আধিকারিকরা আরও জানিয়েছেন, "বিমান ও হেলিকপ্টারটি কিনতে মোট ১১২ কোটি টাকা ব্যবহার করা হয়েছে।"
বিদেশি টাকায় চপার?
ইডি আধিকারিকরা এও জানিয়েছেন, "অগাস্টা চপারটি কেনার জন্য কিছু বিদেশি তহবিলও ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে বেশিরভাগ টাকাই সরাসরি তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে এসেছে।" ইডি-র তদন্তে একটি অদ্ভুত বিষয় উঠে এসেছে। তৃণমূলের টাকাতেই বিমান ও হেলিকপ্টার কেনা হলেও, সেগুলি আবার তৃণমূলকেই ভাড়া দেওয়া হত। "এরপর বিমান ব্যবহারের নামে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন করা হয়," তদন্তে এমনটাই জানতে পেরেছে ইডি।
তদন্তকারীদের মতে, "পুরো ব্যবস্থাটি অত্যন্ত সন্দেহজনক। আসল উদ্দেশ্য আড়াল করার জন্যই এই জটিল ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, যা এখন তদন্তের আওতায়।" এই তল্লাশি প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে চালানো হচ্ছে। ইডি-র প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ১৬০ কোটি টাকা অ্যাভিয়েশন এবং ট্র্যাভেল কোম্পানির মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে, যা এখন স্ক্যানারে।
যেসব জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে, তার মধ্যে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন, তার ডিরেক্টরদের অফিস এবং একটি নির্বাচনী ট্রাস্টও রয়েছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, টাকার গতিবিধি বুঝতে এবং এই লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলিকে চিহ্নিত করতে বিভিন্ন নথি, ডিজিটাল রেকর্ড এবং আর্থিক বিবৃতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


