INDIA জোটে যোগ দিতে আগ্রহী ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল শিবির! তবে শর্ত একটাই, জোটে রাখা যাবে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই দাবি ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শান্তিতে থাকতে দেবেন না! এমনই পরিকল্পনা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের? আবারও উঠে এল সেই প্রশ্ন। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ইন্ডিয়া জোটের রাস্তায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে চাইছে ঋতব্রতপন্থীরা। ঋতব্রত-তৃণমূলের বিধায়ক আখরুজ্জামানের বয়ান ঘিরে তেমনই জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে।

কী বলেছেন আখরুজ্জামন?

বুধবার দিল্লিতে বিজেপি বিরোধী I.N.D.I.A শিবিরের একটি বৈঠক ছিল। সেখানে মোটের ওপর প্রায় মধ্যমণি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধীদের পাশে বসতে দেওয়া হয় মমতাকে। সনিয়া গান্ধী তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ঝালিয়ে নেন সুপ্রিয়া সুলে। কিন্তু ইন্ডিয়া শিবিরের ঐক্যের ছবি ধরা পড়ে। কিন্তু তার পর ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই ঋতব্রত শিবির মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের কাঁটা' হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঋতব্রত তৃণমূলের বিধায়ক আখরুজ্জামন বলেন, 'আমরা বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করতে চাই। অল ইন্ডিয়া লেভেলে যে জোট হয়েছে তাতে ঘোঁঠ পাকানোর নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উনি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান না। দেখবেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রয়োজন যখন হবে তখনই উনি ইন্ডিয়া জোট ভেঙে দিয়েও পারেন। NDAকে সমর্থনের রেকর্ড রয়েছে ওঁর অতীতে।' এখানেই শেষ নয়। আখরুজ্জামন আরও বলেন, 'আমরা I.N.D.I.A জোটের নেতৃত্বকে বলব সত্যিকারের বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই যদি করতে হয় তাহলে মমতাকে বাদ দিলে আমরা I.N.D.I.A জোটে শামিল হব।' যার অর্থ মমতাকে বাদ দিলে ঋতব্রতপন্থীরাই I.N.D.I.A জোটের সদস্য হবে।

মমতাকে নিশানা

আখরুজ্জামন আরও অভিযোগ করেন, মমতা আগ বাড়িয়েই I.N.D.I.A জোট নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন,'এবার যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখঘরে, তখনই মমতা আগ বাড়িয়ে I.N.D.I.A জোট নিয়ে কথা বলছেন। আগ বাড়িয়ে I.N.D.I.A জোটে যাচ্ছেন। ওঁকে কেউ ডাকছে, কী ডাকছে না, উনি নিজে প্রেস মিট করে বলছেন, 'আমাকে উনি চিঠি দিয়েছেন, চিঠি দিয়েছেন'। নিজে ঢাকঢোল পেটাচ্ছেন উনি।' তারপরই তিনি ইন্ডিয়া জোট থেকে মমতাকে বাদ দিলে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে কংগ্রেসের পাশে থাকবে ঋতব্রত শিবির। কিন্তু ইন্ডিয়া জোট কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই এখন দেখার।

তৃণমূল ভেঙে ৩ টুকরো

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পরই তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙতে শুরু করে। একদিকে প্রায় ৬০ জন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মমতাকে ত্যাগ করেন। তারা ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল নামে পরিচিত। অন্যদিকে মমতার অনুগামীরা কালীঘাটপন্থী নামে পরিতিত। অন্যদিকে সাংসদদের মধ্যেও ভাঙন দেখা দেয়। প্রায় ২০ সাংসদ NCPI নামে অখ্যাত দলে। তারা নিজেদের NDA জোটের শরিক বলেও দাবি করে। কিন্তু এখনও তাদের নিয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নেয়নি স্পিকার। তবে সব মিলিয়ে ভোটের পর থেকেই বিপর্যস্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের ক্ষমতা হারানোর পরই দলের রাশও তাদের হাতছাড়়া হয়। এবার মমতার সামনে নতুন বিপদ ইন্ডিয়া জোটে বাধা।