কলকাতার চোরবাগান পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বিজেপিকে চড়া সুরে আক্রমণ করল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপোর সঙ্গে এই পুজোর যোগ রয়েছে বলে দাবি ঘাসফুল শিবিরের।

চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গা পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু এবং ২৫ জনের আহত হওয়ার ঘটনায় এবার ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) দিকে আঙুল তুলল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। রবিবার তারা এই মর্মান্তিক ঘটনার দায় কার, সেই প্রশ্ন তুলে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ওই পুজোর যোগসাজশের অভিযোগ এনেছে।

ভাইপোকে গ্রেফতারের দাবি তৃণমূলের

এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে তৃণমূল দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো ওই পুজো মণ্ডপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। পাশাপাশি, একজন বিজেপি বিধায়ক ওই পুজো কমিটির চেয়ারম্যান বলেও দাবি করেছে তারা। তৃণমূলের কথায়, "চোরবাগান পুজো মণ্ডপের সঙ্গে কে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, একবার ভাবুন তো? @SuvenduWB-এর ভাইপো। আর @BJP4Bengal-এর একজন বিধায়ক এই পুজো কমিটির চেয়ারম্যান! দায়বদ্ধতা কোথায়? এতগুলো মৃত্যুর জন্য কে দায়ী? যে মুখ্যমন্ত্রীর কোনও লজ্জাবোধ নেই, তিনি কবে পদত্যাগ করবেন?!" একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারেরও দাবি জানান হয়েছে।

Scroll to load tweet…

অমিত শাহের সফর নিয়ে কটাক্ষ তৃণমূলের

অন্য একটি পোস্টে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কলকাতা সফরের আয়োজন নিয়ে বিজেপিকে তুলোধোনা করেছে তৃণমূল। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার চেয়ে ভিআইপি নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছে তারা।

দলের তরফে বলা হয়েছে, "@AmitShah-কে রাজকীয় স্বাগত জানানো হচ্ছে, আর এদিকে সাধারণ মানুষ জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন। কী লজ্জাজনক বৈপরীত্য! একদিকে যখন এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে এবং পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের জন্য শোক পালন করছে, তখন @BJP4India-র নেতারা কীভাবে উৎসব করতে পারেন?"

অমিত শাহের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করায় মণ্ডপের ভিড় সামলানোর কাজে ঘাটতি পড়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছে তৃণমূল।

তারা প্রশ্ন করেছে, "অমিত শাহের নিরাপত্তার দিকে কি পুলিশের নজর এতটাই বেশি ছিল যে ভিড় সামলানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি অবহেলিত হয়েছে? বাংলার মানুষ কি এমন একটা ব্যবস্থার জন্যই ভোট দিয়েছিলেন, যেখানে একজন ভিআইপি কড়া নিরাপত্তা আর রাজকীয় অভ্যর্থনা পাবেন, আর সাধারণ বাঙালির জীবনের কোনও দামই থাকবে না?"

দল আরও যোগ করেছে, "ভিআইপি সংস্কৃতির যূপকাষ্ঠে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে কখনওই বলি দেওয়া উচিত নয়। প্রাণ গেলে দায়বদ্ধতা এড়ানো যায় না। @SuvenduWB কবে তাঁর ভাইপোকে গ্রেফতার করাচ্ছেন?"

@AmitShah-কে রাজকীয় স্বাগত জানানো হচ্ছে, আর এদিকে সাধারণ মানুষ জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন। কী লজ্জাজনক বৈপরীত্য! একদিকে যখন এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে এবং পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের জন্য শোক পালন করছে, তখন @BJP4India-র নেতারা কীভাবে উৎসব করতে পারেন? সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে সেই একই তৎপরতা কোথায় ছিল? অমিত শাহের নিরাপত্তার দিকে কি পুলিশের নজর এতটাই বেশি ছিল যে ভিড় সামলানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি অবহেলিত হয়েছে? বাংলার মানুষ কি এমন একটা ব্যবস্থার জন্যই ভোট দিয়েছিলেন, যেখানে একজন ভিআইপি কড়া নিরাপত্তা আর রাজকীয় অভ্যর্থনা পাবেন, আর সাধারণ বাঙালির জীবনের কোনও দামই থাকবে না? ভিআইপি সংস্কৃতির যূপকাষ্ঠে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে কখনওই বলি দেওয়া উচিত নয়। প্রাণ গেলে দায়বদ্ধতা এড়ানো যায় না। @SuvenduWB কবে তাঁর ভাইপোকে গ্রেফতার করাচ্ছেন?

Scroll to load tweet…

চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে নিহত ১৯, আহত ২৫

শনিবার উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গা পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবল ভিড়ের মধ্যে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ১৯ জনের মৃত্যু হয় এবং ২৫ জন আহত হন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর রবিবার কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে যান অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দেখতে যাওয়ার জন্য রাজ্যের সমস্ত পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন শাহ।

এদিকে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে পুজো কমিটির সম্পাদক রাজ কুমার সেওদা ওরফে রাজা, সহ-সভাপতি শান্তনু দুবে এবং বাঁশের কাঠামো তৈরির সঙ্গে যুক্ত বিপ্লব মুখোপাধ্যায় ওরফে জয়।

এছাড়াও ভিড় সামলানো এবং ভিআইপি পাস চেকিংয়ের দায়িত্বে থাকা কৌশিক সাহা, ভিড় সামলানোর কাজে যুক্ত পিন্টু দে এবং বেসরকারি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সুমন চক্রবর্তী ও রাজেশ পালকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

আয়োজক এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৫, ১১০ এবং ৩(৫) ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ জনকে আটকও করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অন্যদিকে, সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত কলকাতার বেশ কিছু অংশে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। বউবাজার থানার অন্তর্গত কলেজ স্ট্রিট, সিআর অ্যাভিনিউ, কলুটোলা স্ট্রিট এবং ইডেন হাসপাতাল রোড সংলগ্ন এলাকায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। এই নির্দেশের ফলে পাঁচ বা তার বেশি মানুষের বেআইনি জমায়েত, অস্ত্র বহন এবং জনশান্তি বিঘ্নিত হতে পারে এমন কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার মৃতদের পরিবার পিছু ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং একজনের চাকরির কথা ঘোষণা করেছে। কার গাফিলতিতে এই ঘটনা, তা খতিয়ে দেখতে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর তদন্তও শুরু হয়েছে।

পদপিষ্ট হওয়ার পেছনের কারণগুলো খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।