দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জীবনতলার ঘটনা কাটমানি না পেয়ে দম্পতিকে মারের অভিযোগ হাসপাতালে ভর্তি আক্রান্ত গৃহবধূ অভিযোগ অস্বীকার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের


মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থান, জেলায় জেলায় বিক্ষোভেও কাটমানি লোভ ছাড়তে পারছেন না শাসক দলের কিছু নেতা। তারই প্রমাণ পাওয়া গেল দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জীবনতলা থানার গাঁতি এলাকায়। কাটমানি না দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করায় এক দম্পতিকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। মারের চোটে আহত হয়ে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আক্রান্ত গৃহবধূ। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

অভিযুক্ত ওই তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের নাম মুজিবুর সরদার। অভিযোগ সরকারি প্রকল্পে বাড়ি তৈরির জন্য সরকারি অনুদান পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে হায়বত মোল্লা নামে এক যুবকের কাছ থেকে কুড়ি হাজার টাকা দাবি করেছিলেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। তা না দেওয়াতেই হায়বত এবং তাঁর স্ত্রীর উপরে শনিবার রাতে চড়াও হয় অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য এবং তার দলবল। 

হায়বত মোল্লা নামে অভিযোগকারী যুবকের দাবি, সরকারি প্রকল্পে ঘর পাওয়ার জন্য এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন জায়গায় তদবির করেছিলেন তিনি। গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়, বিডিও-র অফিসে ঘুরেও কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কালীঘাটে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে অভিযোগ জানিয়ে আসেন তিনি। এর পরেই উপরমহল থেকে স্থানীও বিডিও এবং বাঁশড়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে বিষয়টি দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। 
অভিযোগ তার পরেও স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মুজিবর সরদার তাতে বাধা দেন বলে অভিযোগ। বাড়ি তৈরির টাকা পেতে গেলে কুড়ি হাজার টাকা দিতে হবে বলে হায়বতের কাছে দাবি করেন তিনি। কিন্তু পেশায় গ্রামের চায়ের দোকানদার হায়বত মোল্লা সেই টাকা না দিতে পাড়ায় ঘর পাননি। ঘর না পাওয়ার কারণ ও বিভিন্ন জায়গায় ঘরের জন্য আবেদনের বিষয়টি তাঁর এক পরিচিতের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন হায়বত। 

কেন তিনি বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, এই অভিযোগ তুলে শনিবার রাতে হায়বতের দোকানে চড়াও হয় মুজিবর এবং তার দলবল। হায়বতের দোকান ভাঙচুর করার পাশাপাশি তাঁকে বেধড়ক মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন তাঁর স্ত্রী খাদিজা বিবিও। 

শনিবার রাতেই স্থানীয়রা আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে প্রথমে ঘুঁটিয়ারি শরিফ ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু হায়বতের স্ত্রীর আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে সেখান থেকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় চিকিৎসার জন্য। ঘটনার কথা জানিয়ে রবিবার সকালে ঘুঁটিয়ারি শরিফ ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত হায়বত মোল্লা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। 

অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার অবশ্য দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। ওই গ্রামের কেউই এখনও ঘরের টাকা পাননি বলে দাবি ওই তৃণমূল নেতার। তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই হায়বত মোল্লা তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে বলে দাবি অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য।