কাটমানি বিতর্কে এবার নাম জড়াল প্রবীণ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা এবং রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শঙ্কর সিংহের বিরুদ্ধে। প্রবীণ এই তৃণমূল কংগ্রেস নেতার নামে সোমবার রানাঘাট শহরের বিভিন্ন এলাকায়  পোস্টার পড়েছে। তবে কাটমানি নেওয়া নয়, কাটমানি দেওয়ার দিয়ে দলীয় পদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার সকালে রানাঘাট থানার রামনগর, আইসতলা, গড়েরবাগান, হবিবপুর-সহ একাধিক জায়গায় বিধায়ক শঙ্কর সিংহের বিরুদ্ধে এই পোস্টার দেখতে পান সাধারণ মানুষ। পোস্টারে শঙ্কর সিংহের ছবি এবং নাম দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থার সূত্রে হাতে আসা কোটি কোটি টাকা কাটমানি খরচ করে রানাঘাট সাংগঠিনকি  জেলার সভাপতি হয়েছেন তিনি। 

এই সমস্ত অভিযোগই উড়িয়ে দিয়েছেন শঙ্কর সিংহ। তিনি বলেন, 'আমি ছেচল্লিশ বছর ধরে রাজনীতি করছি। শঙ্কর সিংহ কাটমানি নেয় কিনা, তা রানাঘাটের মানুষ জানেন।'

প্রসঙ্গত যে সংস্থার কথা বলা হয়েছে, সেটি শঙ্কর সিংহেরই বলে স্বীকার করেছেন রানাঘাট এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তাপস ঘোষ। তাঁর দাবি, ওই ঠিকাদার সংস্থার কাজকর্ম এতদিন শঙ্কর সিংহ দেখলেও এখন তাঁর ছেলে দেখাশোনা করেন। সৎ পথেই নিয়ম মেনে ওই সংস্থা ব্যবসা করেও বলে দাবি করেছেন তাপসবাবু। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল থেকে এখনও যাঁরা বিজেপি-র সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাঁরাই উদেশ্যপ্রণোদিত ভাবে শঙ্কর সিংহের ভাবমূর্তি ও দলের ভাব মূর্তিকে কালিমালিপ্ত করার উদ্দেশ্যেই এই কাজ করেছে। 

প্রসঙ্গত লোকসভা ভোটের পর সংগঠনিক ভাবে নদিয়া জেলাকে ভাগ করে শঙ্কর সিংহকে রানাঘাট জেলার সভাপতি করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরই সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ট্রেনের ভিতরেও পোস্টার পড়েছিল শঙ্কর সিংহের নামে। এবার কাট মানি দিয়ে জেলা সভাপতির পদ পাওয়ার অভিযোগে পোস্টার পড়ল। 

অন্যদিকে এই ঘটনাকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন রানাঘাট দক্ষিণের বিজেপি সভাপতি মানবেন্দ্র রায়। তাঁর বক্তব্য, কাটমানি দিয়ে যদি জেলা সভাপতির পদ পেয়ে থাকেন শঙ্কর সিংহ, তবে সেই কাটমানি কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়েছেন? কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে, তা তদন্ত করছে রানাঘাট থানার পুলিশ।