সোমবার আউশগ্রামের বেরেন্ডায় এনআরসি ও সিএএ-এর প্রতিবাদে জনসভা করল তৃণমূল কংগ্রেস। এই সভায় মুখ্য বক্তা ছিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। এদিন সভা থেকে তিনি ফের এনআরসি ও সিএএ র বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তথা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। সভার শুরু থেকেই অনুব্রত তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি বলেন,  এ রাজ্যে যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবেন ততদিন এনআরসি হতে দেওয়া হবে না। অনুব্রত প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন,  তুমি ভারতবর্ষকে কাঁদাচ্ছো। দেশের মানুষকে কাঁদানোর কোনও অধিকার তোমার নেই। আর ভারতবর্ষের আইন আমরা মানি না, মানব না। পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দোপাধ্যায় যতদিন থাকবে, চ্যালেঞ্জ করে বলে যাচ্ছি এনআরসি, সিএএ করতে দেব না। পারলে করে দেখিয়ে দাও।  

পাশাপাশি তিনি হুংকার ছেড়ে বললেন,  নরেন্দ্র মোদী ভাবছে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে এনআরসি চালু করবে। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে আমরা লড়ব। আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না। তিনি আরও বলেন, ভারতবর্ষে এখনও পর্যন্ত যতজন প্রধানমন্ত্রী এসেছেন তাদের কারও মাথায় এই এনআরসি আসেনি। জহরলাল নেহরু, লালবাহাদুর শাস্ত্রী, ইন্দিরা গান্ধি, বিজেপির প্রধানমন্ত্রী বাজপায়ী কেউই এনআরসি করেননি। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ মাথামোটা। তোমরা ভেবেছো দেশের আড়াই কোটি মানুষদের তাড়িয়ে দেবে আর আমরা বসে বসে দেখে যাব? আমরা আঙুল চুষব? আমরা লড়াই করব। আমরা ভয় পাব না। 

আমরা পিছিয়ে থাকব না। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে ভয় দেখানো যায় না। মমতা লড়াই করতে জানেন। এই বলেই থেমে থাকেননি অনুব্রত। পাল্টা তাঁর দাবি, দেশের মানুষ নরেন্দ্র মোদীকে চাইছে না। মোদী ভারতবর্ষটাকে শেষ করে দিলো। আমাদের দেশের চেয়েও এখন বাংলাদেশের টাকার দাম বেশি। পাশাপাশি অনুব্রত এদিন আউশগ্রামের সভায় বলেন, আমি শুনেছি আউশগ্রামে সব রেশন ডিলার সপ্তাহে চারদিন দোকান খোলা রাখেন না। এটা চলতে দেওয়া হবে না। প্রত্যেক ডিলারকে সপ্তাহে চারদিন দোকান খোলা রাখতেই হবে। যদি কেউ খোলা না রাখেন তাহলে তাহলে প্রথমে স্থানীয় বিডিওকে জানান। থানায় জানান। তাতে কাজ না হলে আমাকে ওই ডিলারের নাম দিয়ে জানাবেন। আমি যা করার করে দেব। চিন্তার কোনও কারণ নেই।

সম্প্রতি তৃণমূল নেতা তথা বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য় করেন সৌমিত্র খাঁ এদিন সেই প্রসঙ্গে অনুব্রত বলেন, বাকালের মত কথা বলে। ফালতু ছেলে। দিলীপ ঘোষ যেমন রাখাল বাকাল। সেরকম । যতদিন তৃণমূলে ছিল শিক্ষাদিক্ষা ছিল। এখন তৃণমূলে নেই শিক্ষা-দীক্ষা নেই। এদিন বিশ্বভারতী প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন অনুব্রত। তিনি বলেন, আন্দোলন করার অধিকার সবার রয়েছে। তবে বাইরে থেকে লোক এনে ঝামেলা করবে আমরা তা মানব না।