পুরসভার অফিস নাকি ম্যাসাজ পার্লার!  দেখে বোঝার উপায় নেই।  অফিসে বসেই দিব্যি ম্যাসাজ নিতে নিতেই কাজ করছেন এক পুরকর্মী। আর যিনি ম্যাসাজ করে দিচ্ছেন, তিনিও কিন্তু পুরসভায়ই চাকরি করেন।  এমনই ছবি ধরা পড়েছে  হুগলির কোন্নগর পুরসভায়। ভিডিওটি যথারীতি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব। কারণ ভিডিওতে যাঁকে ম্যাসাজ নিতে দেখা যাচ্ছে, তিনি স্রেফ পুরসভার কর্মীই নন, শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের নেতাও বটে। 

হুগলির কোন্নগর পুরসভার জলকল বিভাগের অস্থায়ী কর্মী অলোক মুখোপাধ্যায় ওরফে নাড়ু। তিনি আবার শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের নেতাও। জানা গিয়েছে, তৃণমূল পরিচালিত এই পুরসভার চেয়ারম্যান বাপ্পাদিত্য চট্টোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অলোক। আর সেই সুবাদে পুরসভায় ওই  তৃণমূল কর্মীর দাপটও যথেষ্ট। পুরকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, চেয়ারম্যানকে বলে অন্য বিভাগে বদল করিয়ে ভয় দেখিয়ে তাঁদের নানা ধরণের কাজ করিয়ে নেন  অলোক মুখোপাধ্যায়। এমনকী অফিসে বসেই সহকর্মীদের কাছে নাকি ম্যাসাজও নেন তিনি! সম্প্রতি ওই তৃণমূল নেতার তেমনই একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বলা ভালো ভিডিওটি রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।  মিনিট দুয়েকের ওই ভিডিও-তে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, কোন্নগর পুরসভার জলকল বিভাগের অফিসে দস্তুরমতো চেয়ার-টেবিলে বসে কাজ করছেন অলোক মুখোপাধ্যায়। আর তাঁর পিঠ টিপে দিচ্ছেন পুরসভারই এক বয়স্ক কর্মী!  এই ভিডিওটিকে ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে কোন্ননগরে। প্রশ্ন উঠেছে, কোন্নগর পুরসভায় কর্তব্যরত অবস্থায় কীভাবে এই প্রবীণ কর্মীকে দিয়ে এই কাজ করাতে পারলেন ওই তৃণমূল কর্মী?  জানা গিয়েছে, ভিডিও-এ যাঁকে ম্যাসাজ করতে দেখা যাচ্ছে, তিনি পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। কিন্তু অবসর নেওয়ার পরেও তাঁকে কাজে বহাল রেখেছেন কোন্নগর পুরসভার কর্তৃপক্ষ। 

এদিকে পুরসভার কর্তব্যরত অবস্থায় তিনি যে ম্যাসাজ নিচ্ছিলেন, সেকথা কিন্তু অস্বীকার করছেন না অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা অলোক মুখোপাধ্য়ায়ও।  তবে তাঁর দাবি, 'দিন কয়েক আগে দুর্ঘটনায় কাঁধে বা হাঁটুতে চোট পেয়েছেন। একটানা কাজ করলে যন্ত্রণা হয়। নেহাতই মানবিকতার খাতিরেই তাঁর কাঁধে ম্যাসাজ করে দিচ্ছিলেন পুরসভার এক প্রবীণ কর্মী। তিনি কাউকে জোর করেননি।'  কিন্তু ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হল কী করে?  অভিযুক্ত তৃণমূলকর্মীর ব্যাখ্যা, পুরসভা কোনও কর্মী মোবাইলে ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি তেমন গুরুতর কিছু নয়।  

এই ঘটনাকে লজ্জাজনক অ্যাখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিজেপির শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি  শ্যামল বসু।  তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা অলোক মুখোপাধ্যায় কোন্ননগর পুরসভার চেয়ারম্যান বাপ্পাদিত্য চট্টোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। দিন কয়েক আগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পুরসভার বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন কাউন্সিলরা।