'দিদিকে বলো' কর্মসূচিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন আরও এক তৃণমূল বিধায়ক। এবার ঝাড়গ্রামের  বিনপুরের বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ হেমব্রমকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, গ্রামের প্রধান রাস্তাটির এমনই অবস্থা যে তা দেখলে ধানক্ষেত মনে হয়। 

'দিদিকে বলো' কর্মসূচির প্রচারে রবিবার বেলপাহাড়ির বাঁশপাহাড়ি অঞ্চলের পচাপানি গ্রামে যান তৃণমূল বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ হেমব্রম। 

এলাকায় অনুন্নয়ন,এদিন গ্রামে যেতেই গ্রামের গ্রামবাসীরা একযোগে গ্রামের বেহাল রাস্তা মেরামতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে বাঁশপাহাড়ি থেকে পচাপানি গ্রামের প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকা করতে হবে। 

পচাপানি গ্রামে প্রায় আটশো পারিবারের বাস। গ্রামে রয়েছে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়,একটি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র,একটি উচ্চ প্রাথমিক বিভাগ। এই রাস্তার উপর নির্ভর করেই কুচলডাঙা, পেলিডাঙা, জোড়ামহল- সহ বিভিন্ন গ্রামে। এই রাস্তা ধরে খুব সহজে কম সময় বাঁকুড়া জেলাতেও যাওয়া যায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গ্রামের এই একমাত্র রাস্তা দিয়ে ব্লক সদর বেলপাহাড়িতে যেতে হয়। বাসস্ট্যান্ড,উচ্চ বিদ্যালয়,হাসপাতাল যেতে হলেও এই রাস্তাই ভরসা। কিন্তু রাস্তাটি এতটাই বেহাল যে চার চাকা গাড়ি তো দূরস্থ, বাইক পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায় না। গর্তে ভরা এই রাস্তা দিয়ে কৃষকরা তাদের কৃষি পণ্য নিয়ে বাজারে যেতে পারেন না। 

গ্রামবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু অভিযোগ, বার বার আশ্বস্ত করা হলেও আদতে রাস্তার কাজ হচ্ছে না। তাই বিধায়ককে কাছে পেয়ে তাই রবিবার ক্ষোভ উগরে দেন গ্রামবাসীরা। ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী।

খগেন্দ্রনাথবাবু গ্রামবাসীদের জানান, যথাযথ জায়গায় তিনি সমস্যার কথা জানাবেন। বিধায়কের সঙ্গেই ছিলেন বেলপাহাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধক্ষ বিকাশ সিং সর্দার,অঞ্চল সভাপতি আনন্দ মাহাত সহ স্থানীয় নেতৃত্ব। তাঁরা রাস্তাটিও ঘুরে দেখেন। শিগগিরই রাস্তার কাজ শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের অবশ্য দাবি, ক্ষোভ- বিক্ষোভ হয়নি, শুধুমাত্র নিজেদের দাবি বিধায়কের কাছে তুলে ধরেছেন গ্রামবাসীরা।